মায়ের কোল হারিয়ে খেলনাকেই জাপ্টে ধরা! ছোট্ট পাঞ্চের একাকীত্ব ঘোচাতে ওরাংওটাং-এর বিশ্বজয়

একটি ছোট্ট প্রাণ, এক আকাশ একাকীত্ব আর একটি তুলো ভরা পুতুল— এই তিনে মিলেই তৈরি হয়েছে এক অবিশ্বাস্য আবেগের গল্প। জাপানের ইচিকাওয়া সিটি জু-এর একটি শিশু বাঁদর, যার নাম ‘পাঞ্চ’, বর্তমানে ইন্টারনেটে সেনসেশন। আর তার সেই জনপ্রিয়তার জেরেই এখন বিশ্ববাজারে সোনার দামে বিক্রি হচ্ছে ওরাংওটাং আকৃতির টেডি বিয়ার।
জন্মের পরেই নিষ্ঠুর বাস্তবের সম্মুখীন হয়েছিল পাঞ্চ। নিজের দলের বাঁদররা তাকে মেনে নেয়নি, এমনকি গর্ভধারিণী মা-ও তাকে ব্রাত্য করে দেয়। চিড়িয়াখানার নির্জন খাঁচায় একা পড়ে থাকা পাঞ্চের জন্য রক্ষীরা এগিয়ে দেন একটি ওরাংওটাং-এর আদলে তৈরি সাধারণ তুলো ভরা পুতুল। সেই নির্জীব খেলনাটির মধ্যেই যেন প্রাণ খুঁজে পায় পাঞ্চ। সারাদিন সেটিকে জাপ্টে ধরে থাকা, তার গায়ে মুখ গুঁজে ঘুমিয়ে থাকার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নেটিজেনরা। লক্ষ লক্ষ মানুষের চোখে জল এনে দিয়েছে পাঞ্চের এই ‘পুতুল-মা’র প্রতি ভালোবাসা।
এই ঘটনার পরেই আশ্চর্যজনকভাবে বিশ্বজুড়ে ওই নির্দিষ্ট ওরাংওটাং পুতুলের চাহিদা হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে আমেরিকা, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় এই আইকিয়া ওরাংওটাং (IKEA Orangutan) কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনলাইন সাইটগুলোতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে। সুযোগ বুঝে খুচরো বিক্রেতারা এর দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু তাতেও বিক্রি কমছে না। মানুষ যেকোনো মূল্যে পাঞ্চের সেই সঙ্গীটিকে নিজের ঘরে নিয়ে আসতে চাইছেন।
বর্তমানে পাঞ্চ অবশ্য আর একা নেই। চিড়িয়াখানার অন্য বাঁদররা তাকে আবার নিজেদের দলে ফিরিয়ে নিয়েছে। সে এখন তার নিজের প্রজাতির সঙ্গেই খেলাধুলা করছে। কিন্তু তার সেই কঠিন সময়ের সঙ্গী ওরাংওটাং টেডিটি এখন বিশ্বজুড়ে ‘সিম্বল অফ ইমোশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা এতই বেশি যে, অনেক সংস্থা নতুন করে এই পুতুল তৈরির বরাত দিচ্ছে। ছোট এক বাঁদরের হাত ধরে একটি খেলনা যে এভাবে ‘হট কেক’-এর মতো বিক্রি হবে, তা আগে কখনও দেখেনি বাজার বিশেষজ্ঞরা।