আবার কি কোনো ভূমিপুত্রেই ভরসা? নন্দীগ্রামে মমতা-শুভেন্দু হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের পর এবার কোন সমীকরণ?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— ‘নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিপরীতে কে?’ একসময়ের আন্দোলনের মাটি নন্দীগ্রাম থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারার পর, এবার সেই কেন্দ্রে হেভিওয়েট নেতারা লড়তে চাইছেন না বলেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। তৃণমূলের সাম্প্রতিক খসড়া প্রার্থী তালিকায় নন্দীগ্রামের নাম ফাঁকা থাকা সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিয়েছে।

নন্দীগ্রামের জটিল অঙ্ক: ২০২১-এর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১,৯৫৬ ভোটে হেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হারের ক্ষত এবং বর্তমানে বিরোধী দলনেতার শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেক শীর্ষ নেতাই। শোনা যাচ্ছে, এবার আর কোনো বাইরের হেভিওয়েট নয়, শুভেন্দুকে টেক্কা দিতে কোনো ‘ভূমিপুত্র’ বা স্থানীয় যুব নেতাকেই ময়দানে নামাতে পারে জোড়াফুল শিবির।

জেলাজুড়ে রদবদলের ইঙ্গিত: খসড়া তালিকায় পূর্ব মেদিনীপুর সহ একাধিক জেলায় বড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে:

  • পূর্ব মেদিনীপুর: চণ্ডীপুরের বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এবং পটাশপুরের উত্তম বারিকের আসন বদল হতে পারে। হলদিয়ায় বিজেপি থেকে আসা তাপসী মণ্ডলের ওপর বাজি ধরতে পারে দল।

  • হাওড়া ও হুগলি: শিবপুরে মনোজ তিওয়ারির ভাগ্য ঝুলে থাকলেও অরূপ রায়দের টিকিট নিশ্চিত। হুগলিতে কোনো গায়িকাকে প্রার্থী করার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে দল।

  • উত্তরবঙ্গ: রাজবংশী ও চা বলয়ের ভোট টানতে অত্যন্ত কৌশলী তৃণমূল। সদ্য দলবদলু বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বা শংকর মালাকারদের নাম নিয়ে চর্চা চলছে।

চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নবান্নে: ২৯৪টি আসনের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। তবে নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই ঘাসফুল শিবিরের জন্য এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।