চরম বিতর্কের মুখে পিছু হঠল NCERT! বাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে অষ্টম শ্রেণির ‘বিতর্কিত’ পাঠ্যবই

দেশের বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ তকমা দিয়ে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যে অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছিল, তা নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল বিতর্কের পর অবশেষে নতিস্বীকার করল ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। সূত্রের খবর, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি এবং আইনি চাপের মুখে বিতর্কিত ওই পাঠ্যপুস্তকটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভোলবদল: সোমবারই প্রকাশিত হয়েছিল অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞানের নতুন বই ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড – পার্ট ২’। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার পর বুধবারই শিক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, বইটি আর বিক্রি করা হবে না। দিল্লির এনসিইআরটি ক্যাম্পাসের কাউন্টার থেকেও বইটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কেন এই পিছু হঠাল? বইটির ‘দ্য রোল অফ দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওয়ার সোসাইটি’ শীর্ষক অধ্যায়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার একাংশকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অভিহিত করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত একে বিচারবিভাগের ওপর “পরিকল্পিত ও সুদৃঢ় আক্রমণ” বলে মন্তব্য করেছিলেন। প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, আমলা বা রাজনীতিবিদদের কথা এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র বিচারবিভাগকে এভাবে চিহ্নিত করা একতরফা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা: প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় তিনি প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা করবেন। বিচারব্যবস্থার ওপর জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় শেষমেশ তড়িঘড়ি বইটি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে এমন বেনজির ঘটনায় শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।