‘মেসোকেই বিয়ে করব, সতিন হব মাসির’! বোনঝির জেদ দেখে মাথায় হাত পাড়া-পড়শির, লঙ্কাকাণ্ড যোগীরাজ্যে

সম্পর্কের সমীকরণ যে কতটা জটিল এবং বিতর্কিত হতে পারে, তার এক নজিরবিহীন সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর জেলা। মাসির বাড়িতে ছুটি কাটাতে এসে মেসোর প্রেমে হাবুডুবু খেল বোনঝি। শুধু প্রেমই নয়, মেসোকে বিয়ে করে সেই বাড়িতেই আজীবন থেকে যাওয়ার জেদ ধরেছে ওই কিশোরী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাদিপুর এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় যে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল, তা দেখে কার্যত বাকরুদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিবাদের সূত্রপাত: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতেহপুরের শাদিপুর এলাকায় মাসির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল ওই কিশোরী। মাসির সন্তান প্রসবের পর তাঁর দেখভাল করার জন্য গত ১৮ মাস ধরে সে ওই বাড়িতেই ছিল। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে নিজের মেসোর সঙ্গেই গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে। বিষয়টি জানাজানি হতেই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা তাকে জোর করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিশোরী সাফ জানিয়ে দেয়, সে মেসোকে ছাড়া কোথাও যাবে না।
প্রকাশ্য রাস্তায় লঙ্কাকাণ্ড: পরিবারের সদস্যরা যখন কিশোরীকে টেনে-হিঁচড়ে রিকশায় তোলার চেষ্টা করছিলেন, তখন চিৎকার করে সে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। কিশোরীর দাবি, “আমি মেসোকেই বিয়ে করে এই বাড়িতে থাকব।” বাড়ির লোক আপত্তি জানালে সে পাল্টা যুক্তি দেয়, “অনেকেরই তো দুটো বউ থাকে, আমার ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?” এই কথা শুনে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের ভিড় তাজ্জব হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই পারিবারিক অশান্তি।
গৃহবধূর অসহায়তা: আক্রান্ত গৃহবধূ তথা কিশোরীর মাসি জানিয়েছেন, নিজের বোনঝিকে বিশ্বাস করে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বিশ্বাস যে এইভাবে ভাঙবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। এর আগেও এই বিষয় নিয়ে বাড়িতে অশান্তি হয়েছিল, তবে সম্মান রক্ষার্থে তখন পুলিশের দ্বারস্থ হননি তাঁরা। কয়েক মাস আগে কিশোরীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হলেও সে ফিরে এসে ফের একই জেদ শুরু করে। আপাতত এই ত্রিকোণ প্রেমের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে ফতেহপুর জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে।