একা অ্যাডমিট কার্ডে হবে না কাজ! বাংলার SIR প্রক্রিয়ায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, কী বললেন বিচারপতি?

পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইন্টারিম রিপোর্ট বা SIR সংক্রান্ত মামলায় বুধবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকায় তথ্য যাচাই বা অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ঠিক কোন পরিস্থিতিতে গ্রাহ্য হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড কোনোভাবেই ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ বা একক নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

বিতর্কের মূলে কী ছিল? শুনানি চলাকালীন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আধার কার্ডের মতো মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও যদি একক নথি (Standalone document) হিসেবে ধরা হয়, তবে জালিয়াতির সম্ভাবনা থেকে যায়। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি বাগচী ব্যাখ্যা দেন, “মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেটে অনেক সময় জন্ম তারিখ বা বাবার নাম উল্লেখ থাকে না। সেই অভাব পূরণ করতেই অ্যাডমিট কার্ডকে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা সহায়ক নথি হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল।”

আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যদি কোনো ভোটার বয়সের বা অভিভাবকত্বের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেট জমা দেন, তবে তার সহায়ক হিসেবে অ্যাডমিট কার্ড পেশ করা যাবে। কিন্তু কেউ যদি কেবল অ্যাডমিট কার্ড দিয়ে পরিচয় বা বয়স প্রমাণ করতে চান, তবে তা গ্রাহ্য হবে না। প্রবীণ আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম মনে করিয়ে দেন যে, যারা পরীক্ষায় বসেও পাশ করেননি, অ্যাডমিট কার্ড তাঁদের কাছেও থাকে। তাই এটি পাশের শংসাপত্র ছাড়া অসম্পূর্ণ।

ডেডলাইন ঘোষণা: রায়ের পর্যবেক্ষণে কিছুটা পরিমার্জন করে সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের কাছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে পর্যন্ত যত নথি জমা পড়েছে, সেগুলি আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসারের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। এর ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।