‘তোমরা ম্যাসাজ পার্লারের যৌনকর্মী’! দিল্লির দম্পতির চরম বর্ণবিদ্বেষের শিকার অরুণাচলের তিন নারী, তোলপাড় রাজধানী

রাজধানীর বুকে ফের আক্রান্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্মান। সামান্য ধুলো পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন মহিলার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচিকর এবং বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো দিল্লির এক দম্পতিকে। ধৃতদের নাম হর্ষ সিং এবং রুবি জৈন, তারা দিল্লির মালব্য নগরের বাসিন্দা। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে।
বিবাদের সূত্রপাত: পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দম্পতির বাড়িতে বৈদ্যুতিক কিছু কাজের জন্য গিয়েছিলেন অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা ওই তিন মহিলা। কাজ চলাকালীন ঘরে সামান্য ধুলো পড়লে দম্পতি মেজাজ হারান। তর্কাতর্কি চলাকালীন হর্ষ ও রুবি ওই মহিলাদের ‘মোমো’ বলে বিদ্রুপ করেন। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ যে তাঁদের ‘যৌনকর্মী’ হিসেবেও অভিহিত করা হয় এবং দাবি করা হয় যে তাঁরা ‘ম্যাসাজ পার্লার’ চালান। ভিডিওতে রুবি জৈনকে দম্ভভরে বলতে শোনা যায় যে তাঁর স্বামী একজন প্রভাবশালী কাস্টমস অফিসার এবং রাজনীতিবিদ।
পুলিশের সামনেই আস্ফালন: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে পুলিশকর্মীর উপস্থিতি সত্ত্বেও ওই দম্পতি তাঁদের অশ্লীল ও বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণ চালিয়ে যান। অরুণাচলের ওই তিন মহিলা সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ জানালেও অভিযুক্তদের দাপট কমেনি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু ঘটনার কড়া নিন্দা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ও গ্রেফতারি: পরিস্থিতি গুরুত্ব বুঝে ময়দানে নামেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “সামান্য বিবাদ যেভাবে বর্ণবিদ্বেষী মোড় নিয়েছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু এবং দিল্লি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। উত্তর-পূর্বের ভাই-বোনদের মর্যাদা রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।