সিকিমে তুষার-বিপর্যয়! বরফের কবলে ৩০০০ পর্যটক, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় ত্রাতা হয়ে নামল ভারতীয় সেনা

সমতলে যখন বসন্তের আবহ, পাহাড় তখন ঢেকেছে বরফের মোটা চাদরে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার সিকিমের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় প্রবল তুষারপাতের জেরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। নাথুলা পাস, ছাঙ্গু লেক, ইয়ুমথাং এবং জিরো পয়েন্টের মতো এলাকায় বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েছেন প্রায় ৩০০০ পর্যটক। তুষারপাতের জেরে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫৫০টি গাড়ি আটকা পড়ে যায়। আটকে পড়া এই বিশাল সংখ্যক পর্যটককে উদ্ধার করতে বুধবার সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযানে নেমেছে ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পস, সিকিম প্রশাসন ও বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (BRO)।
সোমবারের আতঙ্ক: সপ্তাহের শুরু থেকেই সিকিমের আবহাওয়া বিগড়াতে শুরু করে। সোমবার ছাঙ্গু লেক এবং নাথুলা পাস থেকে ফেরার পথে প্রায় ৩০০টি পর্যটক বোঝাই গাড়ি ১৫ মাইল এলাকায় আটকে পড়ে। তুষারপাতের জেরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এবং রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় এগোতে পারছিল না পর্যটকদের গাড়ি। খবর পেয়েই উদ্ধারকাজে নামে সেনা। অন্তত ৮০০ জন পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রবল ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়া ৪৬ জনকে আর্মি বেস ক্যাম্পে রেখে চিকিৎসা ও গরম খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলে পরিস্থিতি আরও জটিল: মঙ্গলবার তুষারপাতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। নাথুলা ও ছাঙ্গু লেক থেকে ফেরার পথে আবারও প্রায় ২০০০ পর্যটক আটকা পড়েন। ১৫ মাইল এলাকায় যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে বিশেষ বরফ কাটার গাড়ি (Snow Cutters) নিয়ে নামে সেনা। প্রায় ১৫০০ পর্যটককে রাতের অন্ধকারে উদ্ধার করে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। বুধবার সকাল থেকে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হতেই তাঁদের গ্যাংটকে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সেনার তৎপরতা ও প্রশাসনের সতর্কতা: ত্রিশক্তি কর্পসের কর্নেল গৌরব রাঠোর জানিয়েছেন, “সেনা জওয়ানরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে দফায় দফায় উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। কয়েকশো পর্যটক এখনও আর্মি ক্যাম্পে নিরাপদে রয়েছেন। তাঁদের গ্যাংটকে ফেরানোর কাজ চলছে।” অন্যদিকে, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। তাই সিকিম প্রশাসনের তরফে আগামী কয়েকদিন নাথুলা, ছাঙ্গু বা ইয়ুমথাংয়ের মতো উচ্চ ও ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় পর্যটকদের না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।