হিংসা রুখতে বড় দাওয়াই: বিধানসভা ভিত্তিক ১,৪৪৪ অফিসার নিয়োগ, ভোটে কোনো কারচুপি সহ্য করবে না দিল্লি!

বাংলায় ভোটের দামামা বাজার আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিগত নির্বাচনগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব থেকেই রাজ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের এক বিশাল বাহিনীকে। সূত্রের খবর, নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার দিন থেকেই বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে অন্তত একজন করে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।
পুরানো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা: কমিশন লক্ষ্য করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে মনোনয়ন পর্ব শুরু হলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তি ও রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ আসতে শুরু করে। বিরোধীদের জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো বা ভয় দেখানোর মতো ঘটনা রুখতেই এবার ‘বিধানসভা ভিত্তিক নজরদারি’র সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বাংলা নয়, তামিলনাড়ু, কেরালা, অসম এবং পুদুচেরি—এই পাঁচ রাজ্যেই একই ফর্মুলা কার্যকর করছে কমিশন।
১৪৪৪ অফিসারের স্পেশাল স্কোয়াড: নির্বাচন পরিচালনা ও নজরদারির জন্য মোট ১,৪৪৪ জন আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) এবং আইআরএস (IRS) আধিকারিককে গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছে কমিশন। এদের মধ্যে আইপিএস অফিসারদের ‘পুলিশ অবজারভার’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে। আইএএস পদমর্যাদার অফিসাররা থাকবেন ‘জেনারেল অবজারভার’ হিসেবে এবং নির্বাচনী খরচে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আইআরএস আধিকারিকরা কাজ করবেন ‘রেভিনিউ অবজারভার’ হিসেবে।
কড়া বার্তা কমিশনের: বিগত বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পর্ব থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক হিংসার কথা মাথায় রেখেই এবার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা মনোনয়ন জমার প্রতিটি পদক্ষেপ সশরীরে তদারকি করবেন। কোনো রাজনৈতিক দল যাতে প্রভাব খাটাতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই এই অফিসাররা নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলোতে পৌঁছে যাবেন।