আইনের ঊর্ধ্বে মানবিকতা! মেয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা, খুনের সাজাপ্রাপ্ত বাবাকে জামিন দিল ওড়িশা হাইকোর্ট

আইনের কঠোরতার মাঝেও ফুটে উঠল মানবিকতার এক বিরল নিদর্শন। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসছে মেয়ে, অথচ বাবা খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলবন্দি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থী মেয়ের পাশে থাকার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাবা শ্রীনিবাস পাত্র। বুধবার সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে মানবিক খাতিরে ওড়িশা হাইকোর্ট ওই ব্যক্তিকে সাময়িক জামিন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কেন এই মানবিক সিদ্ধান্ত? ২০১০ সালের একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত শ্রীনিবাস ২০২১ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। হাইকোর্টে করা আবেদনে তিনি জানান, তাঁর মেয়ের পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ি থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। বাড়িতে বৃদ্ধ দাদু-ঠাকুমা ছাড়া আর কেউ নেই, যাঁদের পক্ষে নাতনিকে প্রতিদিন পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। এই যুক্তি গ্রহণ করে ওড়িশা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দেয় যে, “শিক্ষা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং বিশেষ মুহূর্তে সন্তানদের পাশে বাবা-মায়ের থাকা অত্যন্ত জরুরি।”

কড়া শর্তে মুক্তি: আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই জামিন হবে একেবারেই সাময়িক। আইন যে তার নিজস্ব পথেই চলবে, তাও মনে করিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। নির্দেশ অনুযায়ী:

  • শুধুমাত্র মেয়ের পরীক্ষা চলাকালীনই তিনি জেলের বাইরে থাকতে পারবেন।

  • আগামী ১০ মার্চ তাঁকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

  • এই নির্দেশের ফলে মূল মামলার রায়ে কোনো পরিবর্তন হবে না।