কেরালা হলো ‘কেরালম’, তবে কেন ব্রাত্য মমতা? বাংলার নামবদল কেন আটকে দিল মোদী সরকার?

কেরালার নাম বদলে ‘কেরালম’ করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ হওয়ায় যখন দক্ষিণের রাজ্যে খুশির হাওয়া, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চনা নিয়ে। বাম আমল থেকে বর্তমান তৃণমূল সরকার— বারংবার নামবদলের প্রস্তাব পাঠালেও তা কেন ঝুলে রয়েছে কেন্দ্রের লাল ফিতায়? এই ইস্যুতে মঙ্গলবার কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপি এবং সিপিএমের সমঝোতার কারণেই কেরালার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

কেন বারবার আটকে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নামবদল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন বর্ণানুক্রমিক তালিকায় (Alphabetical Order) পশ্চিমবঙ্গ বা ‘West Bengal’-কে এগিয়ে আনতে। সরকারি সভায় একেবারে শেষে সুযোগ পাওয়ায় রাজ্যের বক্তব্য সঠিক গুরুত্ব পায় না বলেই তাঁর যুক্তি। কিন্তু এর আগে ২০১৬ সালে তিনটি ভাষায় (Bengal, বাংলা ও বঙ্গাল) তিনটি নাম প্রস্তাব করায় তা ফিরিয়ে দেয় কেন্দ্র। এরপর ২০১৮ সালে অভিন্ন নাম হিসেবে শুধু ‘বাংলা’ প্রস্তাব করা হলেও তা সংবিধান সংশোধনের কারণ দেখিয়ে আটকে দেওয়া হয়।

বিদেশমন্ত্রকের বড় আপত্তি: এই জট পাকানোর নেপথ্যে বিদেশমন্ত্রকের একটি যুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, ‘বাংলা’ নামের সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ‘বাংলাদেশ’-এর নামের যথেষ্ট মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই দুই নাম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং দুইয়ের পার্থক্য করা কঠিন হবে— এই আশঙ্কার কথা জানিয়েই আপত্তি তুলেছিল বিদেশমন্ত্রক। সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেও, আপাতত কেরালা বাজিমাত করলেও পশ্চিমবঙ্গকে সেই তিমিরেই থাকতে হচ্ছে।