ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় ঘোষণা! পরিচয় পত্রে যুক্ত হলো নতুন নিয়ম, না জানলে বিপদ

পশ্চিমবঙ্গের চলমান ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটারদের পরিচয় যাচাই নিয়ে ঐতিহাসিক এক নির্দেশিকা জারি করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তি বা সংশোধনের ক্ষেত্রে দশম শ্রেণির অ্যাডমিট কার্ডকে পাসের সার্টিফিকেটের সঙ্গে ‘সহায়ক নথি’ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছে।
অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে আদালতের স্পষ্টীকরণ:
আদালতে সিনিয়র আইনজীবী ডি এস নাইডু অ্যাডমিট কার্ডকে একক পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, অ্যাডমিট কার্ড একা সব প্রমাণ করবে না; এটি শুধুমাত্র জন্ম শংসাপত্র এবং অভিভাবকত্বের প্রমাণের উদ্দেশ্যে পাসের সার্টিফিকেটের সাথে একটি ‘সাপোর্টিং ডকুমেন্ট’ বা সহায়ক নথি হিসেবে কার্যকর হবে।
বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ওপর বড় দায়িত্ব:
রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ৮০ লাখ আবেদন ও আপত্তির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৫০ জন জেলা বিচারকের পাশাপাশি সিভিল জজদের নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে আদালত। এমনকি কাজের চাপ সামলাতে ওডিশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ডেপুটেশনে আনার সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত উল্লেখ করেন, “যদি প্রতিটি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা প্রতিদিন ২৫০টি আবেদন নিষ্পত্তি করেন, তবুও এই বিপুল পরিমাণ কাজ শেষ করতে প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে।”
গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি:
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। ভোটার তালিকায় বাবা-মায়ের নামের অমিল, কিংবা ভোটারের সাথে অভিভাবকের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হওয়ার মতো বিষয়গুলি (Logical Discrepancy) খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিতে হবে।