শিলচরে খাস বাইপাসে নারকীয় গণধর্ষণ! রেহাই পেলেন না সাংবাদিকও, সুস্মিতা দেবের কড়া হুঁশিয়ারি

অসমের কাছাড় জেলায় ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘটে যাওয়া এক পৈশাচিক গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। শিলচর বাইপাস রোডে প্রেমিকের সামনেই এক তরুণীকে সাতজন যুবক মিলে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়, ধর্ষণের পর নির্যাতিতাকে ভয় দেখিয়ে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ঘটনায় দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার হাড়হিম করা বিবরণ:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার রাতে ওই তরুণী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে বাইপাস রোডের ধারে একটি গাড়িতে বসেছিলেন। সেই সময় একটি বিলাসবহুল এসইউভি-তে চড়ে সাত যুবক সেখানে পৌঁছায়। প্রথমে তারা পরিচয় জানতে চেয়ে অভব্য আচরণ শুরু করে এবং পরে তরুণীর বন্ধুকে আটকে রেখে একে একে তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর খুনের হুমকি দিয়ে তাঁদেরই একজনের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে বাধ্য করা হয় নির্যাতিতাকে।

সাংবাদিককে মারধর ও রাজনৈতিক উত্তাপ:
এই বর্বরোচিত ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয়েছে এক স্থানীয় সাংবাদিককেও। অভিযোগ, অভিযুক্তদের আত্মীয়রা ওই সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছেন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব। তিনি কাছাড়ের পুলিশ সুপারকে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তৃণমূল।

পুলিশি পদক্ষেপ:
শিলচর সদর থানায় ইতিমধ্যেই গণধর্ষণ, ডাকাতি ও তোলাবাজির ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা এবং জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে কোনও প্রকার গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। বাকি পাঁচ অভিযুক্তের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।