আইপিএল মালিকদের বড় ঘোষণা! ইংল্যান্ডের লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য খুলল দরজা

ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ ‘দ্য হান্ড্রেড’ (The Hundred)-এ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে টালবাহানা চলছিল, অবশেষে তাতে ইতি পড়ল। ২০০৯ সাল থেকে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও, ইংল্যান্ডের এই টুর্নামেন্টে তাঁদের ব্রাত্য রাখা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ECB) এবং টুর্নামেন্টের আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। যৌথ বিবৃতিতে সাফ জানানো হয়েছে, জাতিগত বা জাতীয়তার কারণে কোনও ক্রিকেটারকে অবহেলা করা হবে না; দল গঠন হবে শুধুমাত্র মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
চলতি মাসের শুরুতে একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি— ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ এবং সানরাইজার্স লিডস নিলামে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের উপেক্ষা করতে পারে। যেহেতু এই দলগুলির মালিকানায় ভারতীয় শিল্পপতিরা রয়েছেন এবং ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটীয় সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে, তাই আশঙ্কা ছিল যে SA20 বা ILT20-র মতো এখানেও ব্রাত্য থাকবেন বাবর আজমদের দেশের ক্রিকেটাররা। এই গুঞ্জন বন্ধ করতে ইসিবি প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে চিঠি দেয়, যেখানে মেধার ভিত্তিতে দল গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এমআই লন্ডনের ঐতিহাসিক অবস্থান:
ভারতের বিজনেস টাইকুন মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন ‘এমআই লন্ডন’ (MI London) এই নির্দেশিকাকে স্বাগত জানিয়ে বড় বার্তা দিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে যে, “দ্য হান্ড্রেড সকলের জন্য উন্মুক্ত একটি টুর্নামেন্ট এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমরা মেধার ওপর ভিত্তি করেই খেলোয়াড় নির্বাচন করব।” আম্বানিদের এই অবস্থান পাকিস্তান ক্রিকেট মহলে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
নিলামে ভাগ্যের পরীক্ষা ৬৭ জনের:
আগামী ১১ ও ১২ মার্চ ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর মেগা নিলাম অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেখানে মোট ৬৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন মহিলা— অর্থাৎ সাকুল্যে ৬৭ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন সইম আয়ুব, শাদাব খান ও মহম্মদ নওয়াজের মতো তারকা ক্রিকেটাররা। গত বছর ইসিবি টুর্নামেন্টের ৪৯ শতাংশ মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার পর এখন চারটি দলের রাশ ভারতীয়দের হাতে। তা সত্ত্বেও, যৌথ বিবৃতির পর এটা স্পষ্ট যে লন্ডনের বাইশ গজে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দাপট দেখার পথে আর কোনও আইনি বা রাজনৈতিক বাধা রইল না।