গ্লোবাল এআই সামিটে ‘উন্মুক্ত গায়ে’ প্রতিবাদ! শেষমেশ পুলিশের জালে যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয় ভানু চিব!

দিল্লির হাই-প্রোফাইল ‘গ্লোবাল এআই সামিট’-এ টি-শার্ট খুলে নজিরবিহীন বিক্ষোভের ঘটনায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হলো ভারতীয় যুব কংগ্রেসের (IYC) সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিবকে। পুলিশের দাবি, এই প্রতিবাদের নেপথ্যে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র এবং নেপালের সাম্প্রতিক ‘জেন-জি’ বিক্ষোভের অনুপ্রেরণা।

ঘটনার সূত্রপাত ও পুলিশের দাবি:
ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এআই সামিটে হঠাৎ করেই একদল যুব কংগ্রেস কর্মী টি-শার্ট খুলে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁদের শরীরে লেখা ছিল ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান। দিল্লি পুলিশের দাবি, এটি কোনো সাধারণ বিক্ষোভ ছিল না। এই আন্দোলনের ধরণ ছিল নেপালের অস্থিরতা সৃষ্টিকারী জেন-জি বিক্ষোভের হুবহু নকল। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যেই এই ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের অনুমান।

তিলক মার্গ থানায় জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারি:
সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উদয় ভানু চিবকে তিলক মার্গ থানায় তলব করেছিল দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা জানান, উদয় ভানু এই বিক্ষোভের যাবতীয় পরিকল্পনা জানতেন এবং কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি এবং বেশিরভাগ প্রশ্নই এড়িয়ে গিয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে যুদ্ধ চরমে উঠেছে। কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিলের অভিযোগ, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ চিবকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারী সমাজমাধ্যমে কড়া আক্রমণ শানিয়ে লিখেছেন, “রাহুল গান্ধীর ‘বাবর শের’ এখন জেলে। ভারতের যুবসমাজ এই নগ্ন কংগ্রেসকে ঘৃণা করে। যারা উন্নয়ন-বিরোধী এবং ভারত-বিরোধী, তাদের জায়গা জেলেই হবে।” বিজেপি এই ঘটনায় রাহুল গান্ধীর ক্ষমা প্রার্থনাও দাবি করেছে।

উপসংহার:
যুব কংগ্রেস এই বিক্ষোভকে ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ হিসেবে দেখলেও, কূটনৈতিক মহলের মতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে এহেন আচরণ নজিরবিহীন। আপাতত পুলিশ হেফাজতে থাকা উদয় ভানুকে জেরা করে এই ষড়যন্ত্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছে দিল্লি পুলিশ।