FD গ্রাহকদের সাবধান! ২০২৬-এর নতুন নিয়মে সরাসরি আয়কর দপ্তরে যাবে আপনার তথ্য

সাধারণ মানুষের কাছে সঞ্চয়ের সবথেকে নিরাপদ মাধ্যম হলো ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত। কিন্তু ২০২৬ সালের খসড়া কর নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে আপনার FD-র প্রতিটি তথ্য আয়কর বিভাগের রাডারে থাকবে। কর ফাঁকি রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সরাসরি আয়কর দপ্তরে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কখন রিপোর্ট করা হবে আপনার তথ্য? নতুন খসড়া নিয়ম অনুযায়ী, সব FD-র তথ্য রিপোর্ট করা হবে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে:

  • বড় অঙ্কের আমানত: যদি কোনো ব্যক্তি বছরে ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি মূল্যের ফিক্সড ডিপোজিট করেন, তবে ব্যাঙ্ক সেই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর বিভাগকে জানাবে।

  • সুদের পরিমাণ: শুধুমাত্র মূল আমানত নয়, প্রাপ্ত সুদের মোট পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। বার্ষিক সুদের আয় নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে তা রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক।

ব্যাঙ্ক ঠিক কী কী তথ্য জানাবে? রিপোর্টিংয়ের সময় ব্যাঙ্ক আপনার ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের একটি বিস্তারিত প্রোফাইল আয়কর দপ্তরে পাঠাবে। এর মধ্যে থাকবে:

  • আমানতকারীর নাম, ঠিকানা এবং সঠিক PAN নম্বর।

  • FD খোলার তারিখ, মেয়াদ এবং সুদের হার।

  • বছরে আপনি মোট কত টাকা সুদ হাতে পাচ্ছেন তার নিখুঁত হিসাব।

TDS এবং করদাতার দায়িত্ব: যদি আপনার FD-র সুদের পরিমাণ করযোগ্য সীমার উপরে থাকে, তবে ব্যাঙ্ক নিয়ম অনুযায়ী TDS কেটে নেবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে TDS কাটার পরও করদাতারা আয়কর রিটার্নে (ITR) সেই তথ্য গোপন করেন। ২০২৬-এর নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই গোপনীয়তা আর সম্ভব হবে না। করদাতার প্রধান দায়িত্ব হবে ব্যাঙ্কে সঠিক PAN কার্ড জমা দেওয়া এবং প্রতি বছর নিজের সুদের আয়ের হিসাব রাখা। তথ্য ভুল থাকলে পরে বড় অঙ্কের জরিমানা বা আইনি জটিলতার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রস্তুত থাকবেন কীভাবে? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন FD খোলার সময় নথিপত্র এবং PAN কার্ড পুনরায় যাচাই করে নিন। আপনার বার্ষিক আয়ের সাথে FD-র সুদের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। ২০২৬-এর এই নিয়ম মূলত আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং বড় লগ্নিকারীদের ওপর নজরদারি বাড়াতে আনা হচ্ছে।