ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কা! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য বৈঠক স্থগিত, ৫০% ট্যাক্সের খাঁড়া কি কাটবে?

বিশ্ববাণিজ্যের আঙিনায় ভারত ও আমেরিকার সমীকরণ ফের জটিল মোড় নিল। সোমবার থেকে ওয়াশিংটনে শুরু হওয়ার কথা ছিল দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া তৈরির বৈঠক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতি এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের জেরে তৈরি হওয়া ডামাডোলের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই টানাপোড়েন? গত শনিবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আমদানি শুল্কের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের এই রায়ের পর ট্রাম্প পাল্টা রণকৌশল নেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের সব দেশের ওপর ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক (Import Duty) চাপানো হবে। এর আগে এই হার ছিল ১০ শতাংশ। এই নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় পণ্যে শুল্কের বোঝা: পরিসংখ্যান বলছে, ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক গত কয়েক মাস ধরেই চাপে রয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। এরপর রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনাকে কেন্দ্র করে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হয়। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের বোঝা দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। যদিও সাম্প্রতিক আলোচনার পর ওয়াশিংটন তা ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে রাজি হয়েছিল এবং ২৫ শতাংশের একটি অংশ প্রত্যাহারও করেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার ফলে ফের সব হিসাব ওলটপালট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নতুন নিয়মে কত দিতে হবে ট্যাক্স? বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক বর্তমানে থাকা হারের ওপর অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে। অর্থাৎ, কোনো ভারতীয় পণ্যের ওপর যদি আগে ৫ শতাংশ শুল্ক থাকত, তবে এখন তা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ শতাংশে। এই বিশাল করের বোঝা আমেরিকার বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল, গয়না বা তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ কী? বাণিজ্য মন্ত্রকের জয়েন্ট সচিবের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের ওয়াশিংটন সফর আপাতত স্থগিত থাকলেও, আলোচনা একেবারে বন্ধ হচ্ছে না। দুই দেশই এখন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। পরবর্তী বৈঠকে শুল্ক হ্রাস এবং ভারতীয় পণ্যের বাজার সুনিশ্চিত করার বিষয়টিই হবে প্রধান লক্ষ্য। তবে ট্রাম্পের এই “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।