রাশিয়া থেকে তেল কেনাই কি কাল হলো? মোদী-ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তিতে বড় বাধা নতুন শুল্ক নীতি

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শুল্ক (Global Tariff) আরোপের সিদ্ধান্তের পর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির জটিলতা খতিয়ে দেখতে দুই দেশই কিছুটা সময় নিতে চাইছে।

কেন স্থগিত হলো বৈঠক? আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারত ও আমেরিকার মুখ্য আলোচকদের বসার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় এবং তার পাল্টা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ পুরো বিষয়টি ওলটপালট করে দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনার জন্য ভারতীয় প্রতিনিধিদের প্রস্তাবিত সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের সুবিধামতো নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।”

ট্রাম্প বনাম সুপ্রিম কোর্ট: আসল লড়াই কোথায়? গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়। আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে শুল্ক চাপাচ্ছিল, তা আইনি সীমার বাইরে। এই রায়কে “ভয়ংকর” আখ্যা দিয়ে পাল্টা চাল চালেন ট্রাম্প। তিনি ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে একটি এগজিকিউটিভ অর্ডার সই করেন, যার মাধ্যমে সমস্ত দেশের ওপর ১০% শুল্ক চাপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের ওপর প্রভাব: হোয়াইট হাউসের এক কর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতকে এই ১০ শতাংশ শুল্ক দিতেই হবে। প্রশ্ন উঠেছিল, এটি কি আগের শুল্কের অতিরিক্ত? জবাবে জানানো হয়েছে, নতুন কোনো আইন না আসা পর্যন্ত এই হার কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামোয় সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এই নতুন ‘ট্যারিফ ওয়ার’ সেই আলোচনার গতি কমিয়ে দিল।

রাশিয়া সংযোগ ও ভবিষ্যৎ: বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মূলে রয়েছে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে দিল্লির অনড় অবস্থান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সস্তায় রুশ তেল কেনা নিয়ে হোয়াইট হাউস আগেই উষ্মা প্রকাশ করেছিল। এখন ১০% শুল্কের গেরো সেই সম্পর্কে কতটা তিক্ততা বাড়ায়, সেটাই দেখার। আপাতত মোদী সরকার মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।