সাপ না কি পাখি? নিজের ডিমের জন্য নিপুণ কারুকাজে বাসা বানায় এই বিষধর!

সাপ বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গর্তে বা গাছের কোটরে থাকা কোনো সরীসৃপের ছবি। কিন্তু প্রকৃতির এক আশ্চর্য ব্যতিক্রম হলো ‘কিং কোবরা’ বা শঙ্খচূড়। এটিই বিশ্বের একমাত্র সাপ, যারা পাখির মতো ডালপালা আর পাতা দিয়ে যত্নে বাসা তৈরি করে। সাধারণত সাপেরা বাসা বানাতে জানে না, কিন্তু শঙ্খচূড় তার অনাগত সন্তানদের জন্য রীতিমতো ‘আর্কিটেক্ট’ হয়ে ওঠে।

নিপুণ ইঞ্জিনিয়ারিং: বাসা তৈরির আগে শঙ্খচূড় কয়েক দিন ধরে এলাকা ‘রেইকি’ করে। এরপর বাঁশঝাড় বা বড় গাছের তলায় শুকনো পাতা জড়ো করে বাসা বানাতে শুরু করে। এই বাসাগুলি আকারে একটি ডাইনিং টেবিলের সমান বড় হতে পারে এবং উচ্চতায় প্রায় ৫০-৬০ সেন্টিমিটার হয়। শুধু পাতা জড়ো করাই নয়, শরীরের চাপে সেটিকে শক্তপোক্ত করে মাঝখানে ডিম পাড়ার জন্য গর্ত তৈরি করে এই সাপ।

অতন্দ্র প্রহরী: গরমের শুরুতে ডিম পাড়ার পর মা শঙ্খচূড় কিন্তু ডিমে তা দেয় না। তবে সেটির পাশ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে না। বাসার চারপাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাহারা দেয় সে, যাতে কোনো শত্রু তার ডিমের ধারেকাছে না ঘেঁষতে পারে। সন্তানের প্রতি এমন দায়বদ্ধতা আর বাসা তৈরির শিল্পকলা শঙ্খচূড়কে পৃথিবীর অন্য সব সাপের চেয়ে আলাদা করে রেখেছে।