এলডিসি উত্তরণ কি পিছিয়ে যাচ্ছে? মোক্ষম চাল চালল বিএনপি সরকার!

দায়িত্ব নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশের নতুন বিএনপি সরকার। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে ঢাকা। বর্তমান সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)-র চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। চিঠিতে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন এই সময় বাড়ানোর আরজি? নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বর্তমানে মার্কিন শুল্ক নীতিতে পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো ঝুঁকির মুখে। তিনি বলেন, “আমাদের ভুল করার সুযোগ খুব কম। সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে আমাদের আরও সময় প্রয়োজন।”

সরকারের চিঠিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরের সংকটের কারণে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়গুলোকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ব্যবসায়িক মহলে স্বস্তি না উদ্বেগ? তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-র নেতারা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ, যা বছরে প্রায় ৫৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, “২০২৪ সালেই তো সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। এখন ব্যবসায়ীদের খুশি করতে এই আবেদন করা হতে পারে। তবে সিডিপি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ যদি সলোমন দ্বীপপুঞ্জ বা নেপালের মতো বাংলাদেশের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে, তবে সময় বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”