রেজ্জাক মোল্লা থেকে লক্ষ্মণ শেঠ; ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে বাম নেতারা কেন বার বার বদলালেন জার্সি?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমানের তৃণমূলে যোগদান বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলেছে। তবে প্রতীক উর একা নন, বামেদের পতনের পর থেকে বিগত দেড় দশকে বহু হেভিওয়েট বাম নেতা, মন্ত্রী ও সাংসদ শিবির বদলেছেন। কেউ গিয়েছেন তৃণমূলে, কেউ বা বেছে নিয়েছেন বিজেপি-কে।

বিশিষ্ট বাম দলবদলুদের তালিকা:

  • আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা: বাম আমলের দাপুটে মন্ত্রী ক্যানিং পূর্ব থেকে সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন। পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ফের মন্ত্রী হন।

  • খগেন মুর্মু ও মহফুজা খাতুন: মালদহের একসময়ের সিপিএম বিধায়ক খগেন মুর্মু বর্তমানে বিজেপির সাংসদ। একইভাবে প্রাক্তন বাম বিধায়ক মহফুজা খাতুনও এখন গেরুয়া শিবিরের অন্যতম পরিচিত মুখ।

  • লক্ষ্মণ শেঠ: হলদিয়ার একসময়ের ‘বেতাজ বাদশা’ লক্ষ্মণ শেঠ সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিজেপি এবং পরে কংগ্রেসে যোগ দেন।

  • পরেশনাথ অধিকারী ও ডঃ আবদুস সাত্তার: প্রাক্তন বাম মন্ত্রী পরেশনাথ অধিকারী বর্তমানে তৃণমূলে। বাম আমলের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী আবদুস সাত্তারও বর্তমানে ঘাসফুল শিবিরে।

  • ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোর্তিময়ী শিকদার: প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত এখন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের অন্যতম মুখ। অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী জ্যোর্তিময়ী সিপিএম ছেড়ে বর্তমানে বিজেপিতে।

ব্যতিক্রমী আনুগত্য: তবে দলবদলের এই হিড়িকে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো উদাহরণও বিরল। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও তিনি আমৃত্যু অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। একইভাবে অনিল বসু বা নেপালদেব ভট্টাচার্যের মতো নেতারা শাস্তির মুখে পড়লেও আদর্শ বিসর্জন দেননি।