রেললাইন পার হতেই সামনে হাজির যমরাজ! বর্ধমান স্টেশনে হাড়হিম করা কাণ্ড, কী ঘটল তারপর?

বড্ড তাড়া? রেলগেট বন্ধ থাকলেও নিচ দিয়ে গলে লাইন পার হচ্ছেন? সাবধান! আপনার জন্য ওপারে নয়, লাইনের ওপরেই গদা হাতে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং ‘যমরাজ’। আর তাঁর পাশে খাতা-পেন্সিল নিয়ে হাজির হিসাবরক্ষক ‘চিত্রগুপ্ত’। তবে ভয় পাবেন না, এটি আসলে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের এক অভিনব সচেতনতা প্রচার। রেললাইন পারাপার করতে গিয়ে মৃত্যুর হার কমাতে এবার এভাবেই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
কেন এই পদক্ষেপ? রেল সূত্রের খবর, হাওড়া ডিভিশনে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০ জন মানুষ অসাবধানতাবশত রেললাইন পার হতে গিয়ে প্রাণ হারান। জরিমানা করেও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন ডিআরএম বিশাল কাপুরের উদ্যোগে এই নাটকীয় প্রচারের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। বর্ধমান, গাংপুর বা কালনাগেটের মতো এলাকাগুলোতে যখনই কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাইন পার হচ্ছেন, তখনই তাঁদের সামনে উদয় হচ্ছেন কালো পোশাক ও বিশাল গোঁফওয়ালা যমরাজ। গম্ভীর গলায় তিনি বলছেন, “ভালই হল, আপনি যখন জীবন দিতেই প্রস্তুত, তখন আমিই আপনাকে সরাসরি নিয়ে যাই!” আর পাশে থাকা চিত্রগুপ্ত তাঁর খাতায় ওই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করছেন।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া: হঠাৎ যমরাজের মুখোমুখি হয়ে অনেক যাত্রীই থতমত খেয়ে যাচ্ছেন। কেউ লজ্জায় মাথা নিচু করছেন, কেউ আবার কান ধরে শপথ করছেন যে ভবিষ্যতে আর কখনও এমন ঝুঁকি নেবেন না। যমরাজের বেশে থাকা রেলকর্মী দেবদূত বিশ্বাস জানান, মানুষকে বারবার সতর্ক করার পরেও কাজ হচ্ছিল না, তাই এই মজাদার অথচ গম্ভীর উদ্যোগ। স্থানীয় বাসিন্দা নবীনচন্দ্র দাস রেলের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, “মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এমন অভিনব উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।” রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই ‘যমরাজ’ থেরাপিতে অন্তত টনক নড়বে সাধারণ মানুষের।