ডাল রান্নার সময় এই ১টি ভুল করছেন না তো? অজান্তেই শরীর থেকে হারাচ্ছেন আসল পুষ্টি!

বাঙালির দুপুরের পাতে এক বাটি গরম ডাল আর ভাত না হলে যেন তৃপ্তি আসে না। প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন এবং জিংকের ভাণ্ডার হলো ডাল। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার রান্নার সামান্য ভুলেই ডালের সমস্ত পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? শুধু তাই নয়, ভুল পদ্ধতিতে ডাল রান্না করলে শরীরে গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও বাড়তে পারে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ডাল রান্নার সময় আমরা মূলত ৫টি বড় ভুল করি, যা অবিলম্বে শুধরে নেওয়া প্রয়োজন।

১. ডাল না ভিজিয়ে রান্না করা: এটি সবচেয়ে সাধারণ ভুল। রান্নার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে ডাল না ভেজালে এতে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড ও ট্যানিন দূর হয় না। ফলে শরীর ডালের আয়রন ও জিংক শোষণ করতে পারে না এবং হজমে সমস্যা হয়।

২. সেদ্ধ করার সময় নুন দেওয়া: আমরা অনেকেই জলদি সেদ্ধ করার জন্য শুরুতেই নুন দিয়ে দিই। এতে ডাল শক্ত হয়ে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ আঁচে থাকায় ভিটামিন নষ্ট হয়। নুন সব সময় ডাল সেদ্ধ হওয়ার পর দেওয়া উচিত।

৩. ভিজানো জল ফেলে দেওয়া: ডাল ভালো করে ৩-৪ বার ধুয়ে তারপর ভেজানো উচিত। সেই ভেজানো জলে প্রচুর খনিজ থাকে, যা ফেলে দিলে পুষ্টির অপচয় হয়। ওই জলই রান্নায় ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. ভুল তাপমাত্রার জল: ফুটন্ত ডালে হঠাৎ ঠান্ডা জল দিলে ডাল শক্ত হয়ে যায়। প্রয়োজনে সব সময় গরম জল ব্যবহার করুন। এতে ডালের টেক্সচার এবং পুষ্টি—দুই-ই বজায় থাকে।

৫. অতিরিক্ত জল ও ভুল ফোরন: বেশি জল দিয়ে ডাল পাতলা করলে তা ঘন করতে দীর্ঘক্ষণ ফোটাতে হয়, যা পুষ্টি কমায়। আবার ফোরন সব সময় রান্নার শেষে দেওয়া উচিত যাতে মশলার গুণাগুণ ও সুগন্ধ অটুট থাকে। এই নিয়মগুলো মেনে চললে ডাল হবে সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর।