“প্রতিবাদের নামে দেশের মানহানি বরদাস্ত নয়!” AI সামিটে ‘শার্টলেস’ বিক্ষোভকারীদের জামিন খারিজ আদালতের

ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই (AI) সামিটে খালি গায়ে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় ধৃত চার যুব কংগ্রেস কর্মীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— প্রতিবাদের আড়ালে জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ধৃত কৃষ্ণ হরি, কুন্দন যাদব, অজয় কুমার এবং নরসিংহ যাদবকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: বিচারক জানিয়েছেন, ভারতে যখন ৮০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে একটি বৈশ্বিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, তখন এই ধরনের আচরণ কেবল আইনশৃঙ্খলা সমস্যা নয়, বরং দেশের কূটনৈতিক মর্যাদাতেও আঘাত হানে। আদালত স্পষ্ট বলেছে যে, নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার থাকলেও, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে ‘যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ’ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে আদালত।
তদন্তের স্বার্থে হেফাজত: পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার ভারত মণ্ডপমে ঢুকে জামা খুলে বিক্ষোভ শুরু করেন এই চার যুবক। তাঁদের শরীরে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সমঝোতা বিরোধী স্লোগান লেখা ছিল। বিক্ষোভ সরাতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে, যার প্রমাণ মিলেছে মেডিকেল রিপোর্টে। আদালতের মতে, এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র, বিশেষ অর্থ সাহায্য (Funding) বা অন্য কারও উস্কানি আছে কি না, তা জানতে ধৃতদের মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করা এবং হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।