পর পর ৩ মেয়ে, রাগে স্ত্রীর গলা কাটল পাষণ্ড স্বামী! বিহারের জামুইতে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষা যে কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী থাকল বিহারের জামুই জেলা। স্রেফ পর পর তিনটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধে’ নিজের স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করল স্বামী। এই নৃশংস ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। হাড়হিম করা এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহারের নগর থানা এলাকার আমরথ গ্রামে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম তরানা খাতুন (২৬)। অভিযুক্ত স্বামী ইরফান আনসারি দীর্ঘ দিন ধরেই একটি পুত্রসন্তানের আশায় ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তরানা খাতুন তাঁদের তৃতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে ইরফানের মেজাজ সপ্তমে চড়ে যায়। অভিযোগ, তৃতীয় মেয়ের জন্মের পর থেকেই তরানার ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছেছিল। পুত্রসন্তান না হওয়া নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকেদের গঞ্জনা সহ্য করতে হতো ওই তরুণীকে। বিষয়টি নিয়ে এর আগে গ্রাম পঞ্চায়েতে একাধিকবার সালিশি সভাও হয়েছিল, কিন্তু ইরফানের মানসিকতার কোনো বদল হয়নি।

রক্তাক্ত পরিণতি ও আত্মসমর্পণ: রবিবার ঝগড়া চলাকালীন ধৈর্য হারিয়ে ফেলে ইরফান। রাগের মাথায় একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে স্ত্রীর গলার নলি কেটে দেয়। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তরানা। খুনের পরেই জামুই নগর থানায় গিয়ে ইরফান তার অপরাধ কবুল করে আত্মসমর্পণ করে। তবে ঘটনার খবর চাউর হতেই ইরফানের বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে।

তদন্তে পুলিশ: খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। এসডিপিও জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তাক্ত অস্ত্রটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পুত্রসন্তানের অন্ধ মোহ এবং পারিবারিক বিবাদ থেকেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছে অভিযুক্ত। পলাতক শ্বশুরবাড়ির লোকেদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।