৩০ সপ্তাহে ১.৬ কেজির যুদ্ধ! খোদ চিকিৎসকেরাই বলছেন ‘মিরাকল’, কলকাতায় বিরল অস্ত্রোপচারে এল সন্তান

বিজ্ঞানের জয়যাত্রা নাকি এক মায়ের অদম্য জেদ? কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ঘটে গেল এক বিরল ও অত্যন্ত জটিল চিকিৎসা সাফল্যের ঘটনা। ২০২০ সালে যাঁকে নতুন জীবন পেতে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়েছিল, ২০২৬-এ এসে সেই ৩০ বছর বয়সি মাধবীলতা কুণ্ডু জন্ম দিলেন এক সুস্থ কন্যাসন্তানের। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের ক্ষেত্রে মা ও সন্তান— দু’জনেরই প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে ১০০ শতাংশ। কিন্তু সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে শেষ হাসি হাসলেন মাধবীলতা।
ঝুঁকিপূর্ণ লড়াইয়ের শুরু: বর্ধমানের বাসিন্দা মাধবীলতা যখন গর্ভাবস্থার ১৬ সপ্তাহে হাসপাতালে আসেন, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একদিকে থাইরয়েড ও উচ্চ রক্তচাপ, তার ওপর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের কড়া ওষুধ। ২১ সপ্তাহে তাঁর শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং প্রতিস্থাপিত কিডনির কার্যকারিতা কমতে শুরু করে। তীব্র রক্তাল্পতা আর রক্তে বর্জ্য পদার্থের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।
চিকিৎসকদের যৌথ অভিযান: পরিস্থিতি সামলাতে নেফ্রোলজি, স্ত্রীরোগ বিভাগ, অ্যানাস্থেশিয়া এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করা হয়। ২৮ সপ্তাহের মাথায় গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি থমকে যায় এবং জরায়ুতে জল কমতে শুরু করে। এই পর্যায়ে মাধবীলতার নিজের কিডনি বিকল হওয়ার উপক্রম হওয়ায় চিকিৎসকেরা ‘পরিকল্পিত সিজারিয়ান’ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
সাফল্যের হাসি: ৩০ সপ্তাহ ৩ দিনে ১.৬ কেজি ওজনের এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন মাধবীলতা। ২০ দিন শিশুটিকে ইনকিউবেটরে রাখার পর এবং মায়ের সংক্রমণের যথাযথ চিকিৎসার পর বর্তমানে দু’জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ। চিকিৎসক শিল্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও উপল সেনগুপ্ত জানান, “কিডনি প্রতিস্থাপনের পর গর্ভধারণ করা মানেই প্রতিস্থাপিত কিডনির ওপর মারাত্মক চাপ। সময়মতো সিদ্ধান্ত আর মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি চিকিৎসার ফলেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে।” বাড়ি ফেরার পথে চোখে জল নিয়ে মাধবীলতা বলেন, “একসময় ভেবেছিলাম সন্তানকে হারাব, কিন্তু আজ ওকে কোলে নিয়ে মনে হচ্ছে অলৌকিক কিছু ঘটল।”