“মীনাক্ষীকে হারিয়ে ভূত করে দেব!” মহম্মদ সেলিমকে ‘অহংকারী’ বলে তুলোধনা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর নিশানায় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে মীনাক্ষীর প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনার মাঝেই তাঁকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কল্যাণ। তাঁর সাফ কথা, “মীনাক্ষী দাঁড়ালে হারিয়ে ভূত করে ছেড়ে দেব।”

সেলিমকে তীব্র আক্রমণ: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহম্মদ সেলিমকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মহম্মদ সেলিম সিপিএম পার্টিটাকে শেষ করে দিয়েছেন। ওর মতো উন্নাসিক এবং দাম্ভিক মানুষ আমি দেখিনি। সেলিমের অহংকারের জন্যই প্রতীক উর রহমানের মতো তরুণ তুর্কিরা আজ দল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।” কল্যাণের দাবি, সেলিমের ব্যক্তিগত পছন্দের কারণেই যোগ্য নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

মীনাক্ষী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল: সিপিএম-এর অন্দরের সমীকরণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “সেলিমের কাছে এখন প্রায়োরিটি লেভেল হচ্ছে শুধুই মীনাক্ষী। বাকি কাউকে তিনি গুরুত্ব দেন না। এই একজনের প্রতি অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ার ফলেই সিপিএম-এর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকে প্রকাশ্যে বলছেন, অনেকে ভয়ে পারছেন না, কিন্তু আমরা সব খবর রাখি।”

কেন্দ্রীয় বাহিনী ও আইএসএফ প্রসঙ্গ: রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে তৃণমূলের অস্বস্তির খবর উড়িয়ে দিয়ে কল্যাণ জানান, “৪৮০ কোম্পানি কেন, ১৪৮০ কোম্পানি দিক, তাতে কিছু যায় আসে না। আমাদের সঙ্গে ১০ কোটি মানুষ আছে। ভোটটা মানুষ দেবে, বাহিনীর লোক নয়।” পাশাপাশি ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, এবার নির্বাচনের পর আইএসএফ দলটাই উঠে যাবে। নওসাদের কারণেই ভাঙড়ে অশান্তি ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।