দোলের রাতেই মহাজাগতিক বিস্ময়! আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন’, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে রক্তবর্ণ হবে চাঁদ!

২০২৬ সালের শুরুতেই মহাকাশ বিজ্ঞানের এক অনন্য নজিরের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ববাসী। আগামী ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। কাকতালীয়ভাবে ওই দিনই দোল উৎসব। ফলে রঙের উৎসবের আমেজ এবার মাটির গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে যাবে সুদূর মহাকাশেও। পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ার এই বিরল মুহূর্তটি নিয়ে ইতিমধ্যেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী যখন সূর্য এবং চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, তখনই পৃথিবীর বিশাল ছায়া চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর আছড়ে পড়ে। আগামী ৩ মার্চ দুপুর ৩টে ২০ মিনিটে এই গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। তবে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের সবচেয়ে রোমহর্ষক মুহূর্তটি তৈরি হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে, যখন চাঁদ পুরোপুরি রক্তবর্ণ বা তামাটে রঙ ধারণ করবে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লাড মুন’ (Blood Moon) বলা হয়।

কিন্তু কেন চাঁদ হঠাৎ লাল হয়ে যায়? এর নেপথ্যে রয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের ‘রেলে স্ক্যাটারিং’ (Rayleigh Scattering) তত্ত্ব। পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সময় সূর্যালোক সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে পারে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল স্বল্পতরঙ্গ দৈর্ঘ্যের নীল বা বেগুনি আলোকে বিচ্ছুরিত করে দেয়, কিন্তু দীর্ঘতরঙ্গ দৈর্ঘ্যের লাল এবং কমলা আলো প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের গায়ে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধুলো ও মেঘের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে চাঁদের এই রক্তিম আভা কতটা গাঢ় হবে।

পৃথিবী আকারে চাঁদের চেয়ে অনেক বড় হওয়ায় এই গ্রহণ এক ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না; এটি খালি চোখেই নিরাপদভাবে উপভোগ করা যাবে। দোলের রাতে আকাশের এই ‘রঙের খেলা’ দেখার জন্য এখন থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আকাশপ্রেমীরা।