এপস্টিন ফাইলে ট্রাম্পের নাম? ফাঁস হওয়া নথিতে হোয়াইট হাউসে তীব্র কম্পন, বিপাকে মার্কিন প্রশাসন!

মার্কিন রাজনীতির অলিন্দে ফের একবার মহাপ্রলয়ের সংকেত। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন সংক্রান্ত আদালতের গোপন নথি জনসমক্ষে আসতেই চরম অস্বস্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস। বহু বছর ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা বিস্ফোরক তথ্য এবং সিলমোহর করা নথির অংশবিশেষ ফাঁস হতেই ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের রাতের ঘুম উড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই তালিকায় আর কার কার নাম আছে?
এপস্টিন, যার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার এবং ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ ছিল, ২০১৯ সালে জেলবন্দি অবস্থায় তার রহস্যমৃত্যু হয়। কিন্তু তার মৃত্যুর সাত বছর পরেও সেই অভিশপ্ত নথির জট খুলছে না। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে বেশ কিছু নাম প্রকাশ্যে আসায় দেখা যাচ্ছে, সেখানে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ট্রাম্পের পুরনো পরিচিতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। যদিও ট্রাম্প শিবিরের দাবি, সামাজিক পরিচয় থাকলেই তাকে অপরাধের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা অনুচিত।
হোয়াইট হাউসের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংবাদমাধ্যমের লাগাতার কভারেজ। প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য সামনে আসায় প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজ এবং নীতি নির্ধারণী বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানোর বদলে এই বিতর্কই শিরোনাম দখল করে রাখছে। বিরোধীরা একে হাতিয়ার করে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ বিভাগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক ট্রাম্পের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। এপস্টিন ফাইলের প্রতিটি পাতা উল্টানোর সাথে সাথে জনমানসে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ক্ষমতাশালীদের জন্য কি আইনের আলাদা নিয়ম? এই প্রশ্নে এখন বিদ্ধ হোয়াইট হাউস। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মরিয়া হয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল শুরু করলেও, আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে আসা এই তথ্যপ্রবাহ রোখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।