মধ্যরাতে আকাশপথে পাক হানা! আফগানিস্তানে মৃত্যুমিছিল, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কাঁপছে সীমান্ত?

সীমান্তে ফের যুদ্ধের দামামা! গভীর রাতের অন্ধকারে আফগানিস্তানের আকাশে গর্জে উঠল পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান। একের পর এক মিসাইল আছড়ে পড়ল জঙ্গি আস্তানায়। পাকিস্তানের এই অতর্কিত বিমান হামলায় আফগানিস্তানে ফের শুরু হয়েছে ভয়াবহ মৃত্যুমিছিল। ইসলামাবাদের দাবি, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সাতটি গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যাতে অন্তত ১৭ জন খতম হয়েছে। তবে আফগান সূত্রের দাবি, নিহতের তালিকায় বহু সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।
সম্প্রতি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকার একটি শিয়া মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সেই হামলায় ৩১ জন উপাসকের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। যদিও ইসলামিক স্টেট (IS) সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল, কিন্তু পাকিস্তানের গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, এই হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল আফগানিস্তানের মাটিতে টিটিপি-র ডেরায়। সেই রক্তক্ষয়ী হামলার ‘কড়া বদলা’ নিতেই এবার আফগান সীমান্তে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ধাঁচে হামলা চালাল পাক বাহিনী।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই অভিযান ছিল সম্পূর্ণ ‘ইন্টেলিজেন্স-ভিত্তিক’। নাঙ্গারহার এবং পাকতিকা প্রদেশে টিটিপি এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলির সাতটি ক্যাম্প সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাক সেনার দাবি, এই ঘাঁটিগুলো থেকেই পাকিস্তানে একের পর এক আত্মঘাতী জঙ্গি পাঠানো হচ্ছিল।
অন্যদিকে, এই বিমান হামলার পর ফুঁসছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, পাকিস্তানি এই হামলা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের নগ্ন লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাকিস্তান যে আগ্রাসন দেখিয়েছে, তার ফল ভালো হবে না। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, পাক বিমান থেকে ছোঁড়া মিসাইল মাদ্রাসা এবং সাধারণ মানুষের বাড়িতেও আছড়ে পড়েছে। নাঙ্গারহারের বেহসুদ জেলায় একটি সাধারণ পরিবারের ১৯ জন সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই ঘটনার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায়। গত কয়েক বছর ধরেই ডুরান্ড লাইন নিয়ে দুই দেশের বিরোধ তুঙ্গে। পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করছে যে, আফগান তালিবানরা টিটিপি এবং আইএস-খোরাসান জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে। পাল্টা আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তানের ‘দাদাগিরি’-র বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কোনো বড়সড় সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।