“নাক ডাকাই হলো কাল!”-ট্রাকে সীমান্ত পার হয়ে ঘুম, বাংলাদেশি হলেন গ্রেপ্তার!

গভীর ঘুমে নাক ডাকাই যে বিপদের কারণ হবে, তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি রাজশাহীর যুবক আলমগির কবীর। বাংলাদেশ থেকে ট্রাকে লুকিয়ে ভারতে ঢুকেও শেষরক্ষা হলো না তাঁর। মালদার মহদিপুর সীমান্তে জওয়ানদের সজাগ কান আর যুবকের উচ্চৈঃস্বরে নাক ডাকার শব্দে ফাঁস হয়ে গেল অনুপ্রবেশের ছক। শুক্রবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় বাংলাদেশি যুবক এবং ট্রাকচালক— দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে বিএসএফ (BSF)।
ঘটনার সূত্রপাত: যেভাবে ধরা পড়ল ছক
শুক্রবার বিকেলে পাথর নামিয়ে খালি ট্রাক নিয়ে বাংলাদেশে শিবগঞ্জ থেকে ভারতে ফিরছিলেন কালিয়াচকের চালক সাজু ঘোষ। মহদিপুর সীমান্তে বিএসএফ-এর ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। ট্রাকে বাইরে থেকে কাউকে দেখা না গেলেও হঠাতই ট্রাকের পিছন থেকে অদ্ভুত এক শব্দ শুনতে পান জওয়ানরা।
উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাকের পিছনে পলিথিনের আড়ালে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন এক যুবক। বিএসএফ-এর বন্দুকের নলের খোঁচা খেতেই চিৎকার করে জেগে ওঠেন ওই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। ধরা পড়ে যান চালকও।
গাঁজার নেশা আর ৫ হাজার টাকার চুক্তি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:
-
চুক্তি: ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আলমগিরকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন চালক সাজু ঘোষ।
-
নেশা: ওপার থেকে আসার আগে চালক ও ওই যুবক দু’জনেই গাঁজা খেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
-
নাক ডাকার শব্দ: বিএসএফ থেকে বাঁচতে পলিথিনের তলায় লুকিয়েছিলেন আলমগির। কিন্তু গাঁজার নেশায় এমন গভীর ঘুমে তলিয়ে যান যে তাঁর উচ্চ শব্দে নাক ডাকা সরাসরি পৌঁছে যায় জওয়ানদের কানে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও গোয়েন্দা তথ্য
মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ধৃত আলমগির কবীর (২৬) এবং চালক সাজু ঘোষকে শনিবার মালদা আদালতে পেশ করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, বেশ কিছু ট্রাকচালক মোটা টাকার বিনিময়ে এভাবেই সীমান্ত পারাপারের র্যাকেট চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, একই কায়দায় ছয় মাস আগেও এই এলাকায় এক বাংলাদেশি ধরা পড়েছিলেন।
অন্যান্য অনুপ্রবেশের ঘটনা: কোচবিহারে পাকড়াও পরিবার
অন্যদিকে, কোচবিহারের মাথাভাঙাতেও অনুপ্রবেশের অভিযোগে এক বাংলাদেশি পরিবারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ভারতের এক বাসিন্দা সঞ্জীব চৌধুরীকেও ধরা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে এক নাবালক থাকায় তাকে জুভেনাইল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে।