গুরুতর অসুস্থ শরদ পাওয়ার, ভর্তি পুনের হাসপাতালে, কী হয়েছে NCP নেতার?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতির ‘চাণক্য’ তথা এনসিপি (NCP) নেতা শরদ পাওয়ারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। রবিবার সকালে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং তীব্র ডিহাইড্রেশন (শরীরে জলের ঘাটতি) নিয়ে পুণের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেন তিনি। আপাতত চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৮৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা।

কী হয়েছিল রবিবার সকালে?

পরিবার সূত্রে খবর, রবিবার সকালে বাড়িতে থাকাকালীনই প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হয় শরদ পাওয়ারের। শরীরে চরম দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করায় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক পারভেজ গ্রান্ট জানিয়েছেন:

  • শরদ পাওয়ারের শরীরে জলের মাত্রা অনেক কমে গিয়েছিল।

  • বর্তমানে তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে এবং শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

  • আগামী অন্তত ৪৮ ঘণ্টা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (Observation) রাখা হবে। সব ঠিক থাকলে দু’দিন পর ছুটি পেতে পারেন তিনি।

শরীরে থাবা বসিয়েছে বার্ধক্য ও মানসিক শোক

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন শরদ পাওয়ার। গত ৯ ফেব্রুয়ারিও বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। পাঁচ দিন চিকিৎসার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফিরেছিলেন। তবে ব্যক্তিগত শোকও তাঁর শরীরের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ জানুয়ারি বারামতীতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর ভাইপো অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

ক্যানসারকে হারিয়ে ফিরেছিলেন তিনি

নয়ের দশকে মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন শরদ পাওয়ার। আমেরিকায় দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের পর মারণ রোগকে হারিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন তিনি। তাঁর এই লড়াইয়ের ইতিহাস স্মরণে রেখে অনুগামীরা আশা করছেন, এবারও তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবেন।

প্রবীণ এই নেতার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এনসিপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন অনুগামীরা।