‘আমেরিকা-বিরোধী সিদ্ধান্ত’— সুপ্রিম তোপ দেগে আরও বেপরোয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প, কাঁপছে বিশ্ব বাণিজ্য বাজার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সংঘাত এবার চরম আকার নিল। আমদানিশুল্ক বা ‘ট্যারিফ’ নিয়ে শীর্ষ আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ঢালাও শুল্ক বসানোর নীতিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে বাতিল করে দিয়েছিল। কিন্তু দমবার পাত্র নন ট্রাম্প; ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে দিলেন তিনি।

আদালতের রায় ও ট্রাম্পের পাল্টা তোপ মার্কিন শীর্ষ আদালত ৬-৩ বিচারপতির রায়ে জানিয়েছিল, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে ট্রাম্প যে কর চাপিয়েছিলেন, তা বেআইনি। আদালতের এই রায়কে ‘হাস্যকর’ এবং ‘আমেরিকা-বিরোধী’ বলে তোপ দেগেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যে দেশগুলি কয়েক দশক ধরে আমেরিকাকে ‘নিংড়ে নিয়েছে’, তাদের শিক্ষা দিতেই এই ১৫ শতাংশ ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ কার্যকর করা হবে। ট্রাম্পের যুক্তি, মার্কিন অর্থনীতিকে বাঁচাতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে এই কড়া পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

আদালতের ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা ২০২৫ সালের শুরু থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক বাবদ ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে। সুপ্রিম কোর্ট এই শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করলেও, সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ আমদানিকারীদের ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ ফেরতের বিষয়টি এখন নিম্ন আদালত বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে ট্রাম্পের এই নয়া ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।