জঙ্গিঘাঁটি নাকি সাধারণ মানুষের ঘর? পাকিস্তানের হামলায় এক বছরের শিশুসহ ছিন্নভিন্ন একই পরিবারের ১৬ জন

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ফের যুদ্ধের দামামা। রবিবার মধ্যরাতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে সাতটি জায়গায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান বায়ুসেনা। ইসলামাবাদের দাবি, তারা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) এবং আইএসকেপি-র (ISKP) জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছে। তবে তালিবান প্রশাসনের পাল্টা দাবি, পাকিস্তান কোনো জঙ্গিঘাঁটি নয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের ঘরবাড়ি এবং ধর্মস্থানে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় একই পরিবারের ১৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে এক বছরের শিশু এবং ৮০ বছরের বৃদ্ধও।
হামলার নেপথ্যে রক্তাক্ত ফেব্রুয়ারি পাক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আত্তাউল্লা তারার জানিয়েছেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জনের মৃত্যু এবং গত ২১ ফেব্রুয়ারি বান্নুতে সেনাকর্তার খুনের বদলা নিতেই এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে খোয়ারিজ জঙ্গিরা পাকিস্তানে নাশকতা চালাচ্ছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তালিবান প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আত্মরক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ।
পাল্টা হুঁশিয়ারি তালিবানের আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। কাবুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নানগরহর ও পাকতিকা প্রদেশে পাক সেনার এই কাপুরুষোচিত হামলা তাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতারই প্রমাণ। তালিবান মুখপাত্রের হুঁশিয়ারি, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে সঠিক সময়ে যোগ্য জবাব দেবে আফগানিস্তান।” রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সংগঠনও (IHRF) এই হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে সীমান্ত জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ভারী অস্ত্রশস্ত্র, যে কোনো সময় বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।