৭২% পেশাদারই ভুগছেন ডিজিটাল বার্নআউটে! হার্ট অ্যাটাক রুখতে জীবনযাত্রায় আনুন এই বদল

আধুনিক জীবনযাত্রার চাকচিক্যের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে আছে এক মারণ ব্যাধি— হৃদরোগ। বিশ্বজুড়ে কার্ডিওভাসকুলার রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও ভারতের চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য এবং বিএম বিড়লা হার্ট হাসপাতালের সাম্প্রতিক ‘বিট বাই বিট ২০২৫’ রিপোর্ট জানাচ্ছে, বিশ্বের মোট হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুর ২০ শতাংশই ঘটছে ভারতে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সি তরুণদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
পূর্ব ভারত ও বাংলার উদ্বেগ: রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, দেশের মোট হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ৩০ শতাংশই ঘটছে পূর্ব ভারতে। এই অঞ্চলে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন হৃদরোগী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজের হার জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা এবং জরুরি অবস্থায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ চিকিৎসা না পাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ।
ডিজিটাল ক্লান্তি ও মানসিক চাপের প্রভাব: আজকের যুগে ‘ডিজিটাল ক্লান্তি’ (Digital Fatigue) হার্টের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৭২ শতাংশ শহুরে পেশাজীবী ডিজিটাল বার্নআউটে ভুগছেন। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকা, ঘুমের অভাব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা হার্টের রোগের ঝুঁকি ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপ ধমনীতে প্রদাহ তৈরি করে যা নিঃশব্দে হার্ট অ্যাটাককে ডেকে আনে।
ভারতে হৃদরোগ বাড়ার ৭টি প্রধান কারণ: ১. অস্বাস্থ্যকর খাবার: অতিরিক্ত নুন, চিনি এবং ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্রসেসড খাবার কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিচ্ছে। ২. শারীরিক শ্রমের অভাব: দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং শরীরচর্চা না করায় হৃদপেশি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ৩. উচ্চ রক্তচাপ: এটি চুপিসারে ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত করে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ৪. ডায়াবেটিস: ভারতে ১০১ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন, যা হার্টের রোগের মূল অনুঘটক। ৫. তামাক ও মদ্যপান: রক্তনালি সংকুচিত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। ৬. মানসিক চাপ: দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা সরাসরি হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। ৭. বায়ুদূষণ: বিষাক্ত ধোঁয়া রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সুষম আহার এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর হার্ট স্ক্রিনিং করলেই এই মারণ ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।