উইল বা উইলনামা কি শুধু বয়স্কদের জন্য? অবসরের আগেই কেন এটি সেরে রাখা জরুরি, জানুন আসল কারণ

সাধারণ একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, উইল বা উইলনামা (Will) তৈরি করা কেবল বার্ধক্যের কাজ। কিন্তু বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা এবং ক্রমবর্ধমান সম্পদের কথা মাথায় রাখলে, এই সিদ্ধান্তটি অবসরের জন্য ফেলে রাখা বড় ভুল হতে পারে। সঠিক সময়ে উইল না করলে আপনার কষ্টার্জিত সম্পদ নিয়ে ভবিষ্যতে পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কেন আপনার ৩০ বা ৪০ বছর বয়সেই উইলের কথা ভাবা উচিত? দেখে নিন বিশেষজ্ঞের মত:

নাবালক সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা: তরুণ বাবা-মায়ের জন্য উইল তৈরি করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো দম্পতি উইল ছাড়াই অপ্রত্যাশিতভাবে মারা যান, তবে সন্তানদের আইনগত অভিভাবক কে হবেন তা আদালত ঠিক করে। উইলের মাধ্যমে আপনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন যে আপনার অবর্তমানে সন্তানদের দায়িত্ব কে নেবে এবং তাদের শিক্ষা ও কল্যাণের জন্য আপনার সঞ্চয় ও বীমার টাকা কীভাবে ব্যবহৃত হবে।

পারিবারিক অশান্তি ও আইনি লড়াই এড়ানো: ভারতে সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোন বা আত্মীয়দের মধ্যে বছরের পর বছর মামলা চলা খুব সাধারণ বিষয়। একটি স্পষ্ট উইল এই ধরণের বিভ্রান্তি ও তিক্ততা দূর করে। আপনার পিএফ, পেনশন বা স্থাবর সম্পত্তি কে কতটুকু পাবে, তা আগেভাগে লিখে রাখলে আপনার প্রিয়জনরা মানসিক ও আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পায়।

ডিজিটাল সম্পদের সুরক্ষা: আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পদ শুধু জমি বা সোনায় সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের সম্পদ ছড়িয়ে আছে ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট, এনএফটি, ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট, এমনকি নগদীকরণযোগ্য ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগে। সঠিক নির্দেশনাসহ উইল না থাকলে এই ডিজিটাল সম্পদগুলো আপনার অবর্তমানে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

ক্রমবর্ধমান সম্পদের ব্যবস্থাপনা: মানুষ সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর বয়স থেকেই ফ্ল্যাট, মিউচুয়াল ফান্ড বা ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ শুরু করে। সময়ের সাথে সাথে এই সম্পদ বাড়ে। তাড়াতাড়ি উইল তৈরি করলে একটি কাঠামো তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে নতুন সম্পদ যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে সংশোধন করা যায়।

পরিশেষে, উইল করার জন্য বয়স নয়, দায়িত্বই হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি। আপনি যদি উপার্জনক্ষম হন এবং আপনার ওপর কেউ নির্ভরশীল থাকে, তবে আজই একটি উইল লিখে রাখা আপনার আর্থিক পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।