আকাশপথে আদানির মাস্টারস্ট্রোক! ভারতে তৈরি হবে ব্রাজিলের জেট বিমান, বদলে যাবে যাতায়াতের সংজ্ঞা

ভারতের বিমান পরিবহন শিল্পে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দেশের আকাশপথের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করতে ব্রাজিলের বিখ্যাত বিমান নির্মাতা সংস্থা এমব্রায়ার (Embraer)-এর সাথে হাত মেলালো আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস (Adani Defence & Aerospace)। এই দুই সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এবার ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে অত্যাধুনিক E175 আঞ্চলিক জেট বিমান।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এমব্রায়ারের সিইও ফ্রান্সিসকো গোমেস নেটো এবং আদানি ডিফেন্সের ডিরেক্টর জিৎ আদানি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ভারতের মাটিতেই তৈরি হবে আস্ত বিমান: এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ভারতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’ (FAL) স্থাপন করা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হওয়া প্রাথমিক আলোচনার পর এটি একটি বিশাল অগ্রগতি। এর ফলে কেবল বিমান উৎপাদনই নয়, বরং খুচরো যন্ত্রাংশ সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ (MRO) এবং পাইলট প্রশিক্ষণের মতো একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম তৈরি হবে দেশে।
কেন এই চুক্তি গেম-চেঞ্জার? জিৎ আদানি জানান, ভারত সরকারের ‘উড়ান’ (UDAN) প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ছোট শহরগুলোতে বিমান পরিষেবা পৌঁছেছে। এখন সময় এসেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে আঞ্চলিক বিমান তৈরি করার। তাঁর মতে, এই অংশীদারিত্ব ভারত ও ব্রাজিলের কৌশলগত সম্পর্ককেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আদানি ডিফেন্সের সিইও আশিস রাজবংশী মনে করেন, এই উদ্যোগ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার পথে একটি মাইলফলক, যা প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
E175 জেটের বিশেষত্ব: এমব্রায়ার E175 হলো একটি ৮৮ আসনের মাঝারি পাল্লার জেট বিমান। এটি মূলত ছোট এবং মাঝারি দূরত্বের রুটের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যেখানে বড় বিমান চালানো লাভজনক নয়, সেখানে এই জেটগুলো অত্যন্ত জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং কার্যকর। আগামী ২০ বছরে ভারতের বাজারে ৮০ থেকে ১৪৬ আসনের প্রায় ৫০০টি বিমানের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: ভারতে এই অ্যাসেম্বলি লাইন চালু হলে টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। স্থানীয় উৎপাদনের ফলে বিমানের দাম কমতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভারত থেকে এই বিমান বিদেশে রপ্তানির পথও প্রশস্ত হবে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ভারতের আকাশে প্রথম ‘আদানি-এমব্রায়ার’ বিমান উড়তে শুরু করে।