ঝাড়খণ্ডের ‘সুইজারল্যান্ড’! মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যেতে ঘুরে আসুন এই যমজ পাহাড়ে

সপ্তাহান্তের ছুটিতে শহরের ধুলোবালি আর কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে চান? তাহলে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা সীমান্তের অপূর্ব দুই শৈলশহর—কিরিবুরু ও মেঘাহাতুবুরু। প্রকৃতির কোলে নিভৃতে সময় কাটানোর জন্য এর চেয়ে আদর্শ জায়গা খুব কমই আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৩০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই যমজ শহরকে পর্যটকরা আদর করে ডাকেন “ঝাড়খণ্ডের সুইজারল্যান্ড” নামে।
বিশাল সারান্দা বনের ঠিক হৃদপিণ্ডে অবস্থিত এই দুই পাহাড়ি জনপদ মূলত লোহা আকরিকের খনির জন্য পরিচিত হলেও, এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এশিয়ার বৃহত্তম শাল বন ‘সারান্দা’, যা স্থানীয় ভাষায় ‘৭০০ পাহাড়ের ভূমি’ নামে পরিচিত, তার অমোঘ আকর্ষণ এড়িয়ে যাওয়া দায়। ঘন জঙ্গল, বুনো গন্ধে ঘেরা পাহাড়ি রাস্তা আর মেঘেদের লুকোচুরি—সব মিলিয়ে এ এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
কি কি দেখবেন এখানে? মেঘাহাতুবুরুকে বলা হয় ‘ঝাড়খণ্ডের চেরাপুঞ্জি’। এখানে বছরের অধিকাংশ সময় মেঘেদের আনাগোনা লেগেই থাকে। বিশেষ করে মেঘাহাতুবুরু সানরাইজ পয়েন্ট থেকে যখন মেঘের চাদর ফুঁড়ে সোনালী সূর্য উঁকি দেয়, তখন মনে হয় আপনি কোনো স্বপ্নপুরীতে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্যদিকে, কিরিবুরু সানসেট পয়েন্ট থেকে পাহাড়ের ঢালে সূর্য ডোবার দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করার মতো। এছাড়াও দেখার মতো রয়েছে কুমডি ড্যাম, যেখানে দুই পাহাড়ের মাঝে লাল মাটির জলধারা বয়ে চলে। যদি ভাগ্য সহায় থাকে, তবে ‘রেইনবো ফলস’-এ রামধনুর দেখাও পেয়ে যেতে পারেন। স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (SAIL)-এর বিশাল আয়রন ওর মাইনস বা লৌহ খনিগুলিও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
কীভাবে যাবেন এবং সেরা সময়: কিরিবুরু ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। তবে বর্ষায় এই অরণ্যের রূপ খোলতাই হয় অন্যভাবে। ট্রেনে আসতে চাইলে নিকটতম রেল স্টেশন হলো বড়জামদা (২৪ কিমি), এছাড়া টাটানগর থেকেও সরাসরি পৌঁছানো যায়। সড়কপথে জামশেদপুর বা রাঁচি থেকে গাড়ি ভাড়া করে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় এই মেঘের দেশে। এই শীতেই তবে বেরিয়ে পড়ুন এক অচেনা রোমাঞ্চের খোঁজে!