মেয়র গৌতম দেবের বড় ঘোষণা! একদিকে কর আদায়ে কড়াকড়ি, অন্যদিকে স্কুল-মাদ্রাসার জন্য বিরাট ছাড়!

পাহাড়ের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ির প্রশাসনিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবার সম্পত্তি কর আদায়ে কোমর বেঁধে নামছে পুরনিগম। তবে এই কর আদায়ের পথে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বয়ং সরকারি দফতরগুলোই। পুরনিগম সূত্রে খবর, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাছে বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। বিপুল এই বকেয়া উদ্ধারে এবার কঠোর মনোভাব নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মেয়র গৌতম দেব।
রাজস্ব বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম সাত মাসেই (এপ্রিল থেকে নভেম্বর) ১০ কোটি ৮১ লক্ষ টাকারও বেশি সম্পত্তি কর আদায় হয়েছে। আগামী চার মাসে আরও ১৪ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের ৪৬টি অফিসের কাছে পাওনা রয়েছে ১৪ কোটি ২ লক্ষ টাকা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ৫টি অফিসের কাছে সার্ভিস চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে ৪ কোটি ৬ লক্ষ টাকা। এই বিপুল অর্থ হাতে না আসায় পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে কর আদায়ে কড়াকড়ি করলেও সামাজিক দায়বদ্ধতায় পিছপা হয়নি পুরনিগম। মেয়র গৌতম দেবের নেতৃত্বাধীন বোর্ড মাদ্রাসা, স্কুল, উপাসনালয়, দাতব্য ট্রাস্ট এবং সোসাইটিগুলিকে সম্পত্তি করে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। মেয়রের কথায়, “সাত মাসে কর আদায়ের গতি বেশ সন্তোষজনক। তবে বকেয়া আদায়ে আমরা বাড়তি জোর দিচ্ছি। পাশাপাশি পেনশন এবং সামাজিক ক্ষেত্রগুলিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে শিলিগুড়ি পুরনিগমের রাজস্ব আদায়ের গ্রাফে ওঠানামা দেখা গেছে। ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে হোল্ডিং নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে আয় বাড়লেও সরকারি বকেয়া আদায় করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষ কর দিলেও বড় বড় সরকারি দফতরগুলো কবে এই বিপুল বকেয়া মেটায়, এখন সেটাই দেখার।