রক্তাক্ত ট্যাংরাকাণ্ডের এক বছর: মা-বোনকে খুনের বীভৎস স্মৃতি বুকে চেপে দাবা বোর্ডে বাঁচার লড়াই কিশোরের!

ক্যালেন্ডারের পাতায় ঠিক এক বছর আগে, ১৯ ফেব্রুয়ারি শিউরে উঠেছিল তিলোত্তমা। ট্যাংরার অতুল সুর রোডের দে পরিবারের সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ড আজও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। চোখের সামনে মা, কাকিমা ও বোনকে খুন হতে দেখেছিল ১৪ বছরের সেই কিশোর। আজ এক বছর পর, সেই দগদগে ক্ষত বুকে নিয়েই জীবনের মূল স্রোতে ফেরার লড়াই চালাচ্ছে সে। বর্তমানে তার সঙ্গী হয়েছে দাবার বোর্ড। কালো-সাদা ঘরের ছকেই সে খুঁজে চলেছে বেঁচে থাকার নতুন রসদ।
গত বছর ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে প্রণয় দে ও প্রসূন দে নিজেদের পরিবার শেষ করে দেওয়ার ছক কষেছিল। দুই ভাই মিলে খুন করে সুদেষ্ণা দে, রোমি দে ও নাবালিকা প্রিয়ংবদাকে। এরপর ওই কিশোরকে গাড়িতে বসিয়ে আত্মহত্যার লক্ষ্যে বাইপাসের ধারে মেট্রোর পিলারে সজোরে ধাক্কা মারে তারা। কিন্তু নিয়তির ফেরে বেঁচে যায় কিশোরসহ ঘাতক বাবা ও কাকা। বর্তমানে সেই বাবা ও কাকা প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দি। অনাথ কিশোর দীর্ঘ সময় হোমে কাটানোর পর এখন আশ্রয় নিয়েছে তার কাকার শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও, এই বৃদ্ধ দম্পতিই এখন তাকে আগলে রেখেছেন নাতির মতো।
বিভীষিকাময় সেই রাতে মা-বোনের আর্তনাদ আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। একসময় দাবা খেলতে ভীষণ ভালোবাসত এই কিশোর। কিন্তু ঘটনার পর সেই প্রিয় খেলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল সে। এখন ফের নতুন দাদু-দিদার কাছে ফিরে দাবার বোর্ডে মনোনিবেশ করছে সে। পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় কাটছে কিস্তিমাতের চালে। সম্ভবত দাবার জটিল চালের মাধ্যমেই সে জীবনের কঠিন বাস্তবকে ভুলে থাকতে চাইছে।
রাজ্যের শিশুকল্যাণ কমিটির চেয়ারপার্সন মহুয়া শূর রায় জানিয়েছেন, “নাবালকটি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে। হোমে না থেকে সে তার আত্মীয়দের সঙ্গে আছে, এটাই বড় প্রাপ্তি। আমরা নিয়মিত ওর ওপর নজর রাখছি।” মা নেই, বাবা থেকেও নেই—এই শূন্যতার মাঝে দাঁড়িয়েও ট্যাংরার সেই কিশোর এখন দাবার বোর্ডে নিজের ভবিষ্যৎ সাজানোর চেষ্টা করছে। ফেলে আসা অন্ধকার দিনগুলোকে দাবার চালে মাত দিতে পারবে কি সে? উত্তর দেবে সময়।