সিপিআইএম-এ গৃহযুদ্ধ? প্রতীক উর ইস্যুতে মুখ খুললেন সেলিম, দিলেন ‘সন্তানহারা’ হওয়ার বিস্ফোরক বয়ান!

বঙ্গ রাজনীতিতে এখন সবথেকে চর্চিত বিষয় সিপিআইএম নেতা প্রতীক উর রহমানের পদত্যাগ এবং রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর সংঘাত। শুক্রবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে রাজ্য কমিটির বৈঠকের শেষ দিনে প্রত্যাশিতভাবেই এই ইস্যু উঠে আসে। তবে প্রতীক উরের বিরুদ্ধে কোনও কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং কৌশলী ও আবেগপ্রবণ চালে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেন সেলিম। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতীক উরের মতো তরুণ তুর্কিকে হারানো তাঁর কাছে ‘সন্তান হারানোর’ সমান।

বিগত কয়েক দিন ধরে প্রতীক উর এবং মহম্মদ সেলিমের মধ্যেকার টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। প্রতীক উর সরাসরি সেলিমের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিযোগ করেছিলেন যে, দলের অন্দরের চিঠি বাইরে আনা হয়েছে তাঁকে কালিমালিপ্ত করতে। এদিন তার পালটা জবাবে সেলিম দাবি করেন, গত দেড়-দু’মাস ধরে প্রতীক উরের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আসছিল। সম্পাদক হিসেবে তিনি নিজে সেই বিষয়টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, প্রতীক উর নিজেই দলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন এবং ‘বাইরের লোকজনের’ সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়ছে।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় সেলিমকে। প্রাক্তন সিপিআইএম নেতা তথা বর্তমানে তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রতীক উরের বৈঠক প্রসঙ্গে সেলিম কটাক্ষ করে বলেন, “রতনে রতন চেনেন।” যা থেকে পরিষ্কার যে, প্রতীক উরের তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার জল্পনা সিপিআইএম নেতৃত্বের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করেছে।

শুধু প্রতীক উর নন, সৃজন ভট্টাচার্য বা দীপ্সিতা ধরের মতো তরুণ ব্রিগেডের সঙ্গেও দলের দূরত্ব তৈরি হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সেলিম কিছুটা দালাসনিক ভঙ্গিতে বলেন, “সিপিআইএম যদি শুভেন্দু-মমতার ল্যান্ডমাইন বা বড় নেতাদের দলত্যাগে শেষ না হয়, তবে কিছু ‘স্ক্রিপ্টেড’ রাজনীতিতে শেষ হবে না। কলার খোসা পড়লে তা তুলে নিতে হয় যাতে কেউ পিছলে না পড়ে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কেউ অতল গহ্বরে তলিয়ে গেলে হাত বাড়িয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়, তবে লক্ষ্য রাখতে হয় যাতে অন্যদের আঘাত না লাগে। আপাতত প্রতীক উর ইস্যুতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও, সেলিমের কথায় স্পষ্ট যে বঙ্গ সিপিআইএম-এ এখন এক গভীর সংকটকাল চলছে।