নবান্ন বনাম কমিশন সংঘাতে ইতি? ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবার জুডিশিয়াল অফিসারদের নজরদারি

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তৈরি হওয়া ‘আস্থার ঘাটতি’ ঘোচাতে এবার প্রতিটি জেলায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিক বা জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সব অসঙ্গতি দূর করতে এবার কাজ করবেন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজরা।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ? সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যে দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে ‘দোষারোপের খেলা’ চলছে তা দুর্ভাগ্যজনক। নির্বাচন কমিশন যখন পর্যাপ্ত অফিসারের অভাবের কথা বলছে, তখন রাজ্য সরকার অযথা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে। এই অচলাবস্থা কাটাতেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে আদালত।
ডিজি-কে কড়া ভর্ৎসনা: এদিন শুনানিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিএলও-দের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র উষ্মা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। মগরাহাটে পর্যবেক্ষকের গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজি)-কে রীতিমতো সতর্ক করেন বিচারপতিরা। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা বরদাস্ত করা হবে না। সরকার পক্ষ ২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা নিয়ে আপত্তি জানালেও আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।