ব্রেকিং: চিরনিদ্রায় ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্টা! ৯২ বছরে থামল কলম, শংকরের শেষ ইচ্ছে মেনে রাতেই শেষকৃত্য!

শুক্রবারের বিষণ্ণ বিকেলে চিরবিদায় নিলেন বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্র মণি শংকর মুখোপাধ্যায়, পাঠককুলে যিনি ‘শংকর’ নামেই অমর। ৯২ বছর বয়সে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘চৌরঙ্গী’ ও ‘সীমাবদ্ধ’-এর স্রষ্টা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কলম ছিল তাঁর একমাত্র সঙ্গী। কিন্তু তাঁর প্রয়াণের পর সামনে এল এক অনন্য তথ্য। নিজের শেষ যাত্রা নিয়ে এক বিশেষ ইচ্ছের কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন সাহিত্যিক, যা মেনে নিয়ে আজই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হচ্ছে।
শেষ ইচ্ছাকে সম্মান: সাহিত্যিকের দুই কন্যাই বিদেশে থাকেন। বড় মেয়ে লন্ডন থেকে আসার কথা থাকলেও তাঁর জন্য দেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। কারণ, শংকরের শেষ ইচ্ছে ছিল— তাঁর মরদেহ যেন কোনোভাবেই ‘ঠান্ডা ঘরে’ (Morgue) বা কৃত্রিমভাবে সংরক্ষণ না করা হয়। তাঁর সেই আবেগকে সম্মান জানিয়েই পরিবারের সদস্যরা আজ রাতেই ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জীবনযুদ্ধ ও শেষ যাত্রা: বার্ধক্যজনিত সমস্যা, সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কের টিউমার নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই হাসপাতালে যাতায়াত ছিল তাঁর। ১৫ জানুয়ারি কোমরের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মাঝে কয়েকদিন বাড়ি ফিরলেও ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের অসুস্থতা বাড়ে। পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়নি। আজ হাসপাতাল থেকে ফুলে সাজানো গাড়িতে করে তাঁর নিথর দেহ শেষবারের মতো ছুঁয়ে আসে বন্ডেল রোডের বাড়ি। সেখানে গুণমুগ্ধদের শ্রদ্ধা জানানোর পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মহাশ্মশানে।
সাহিত্য মহলে শোকের ছায়া: শংকরের কলমে উঠে আসত হোটেলের অন্দরমহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই। আজ তাঁর প্রয়াণে হাসপাতালের বাইরে অগণিত অনুরাগীর ভিড় জমে। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক পাঠক। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের একটি সুদীর্ঘ ও উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।