“এত হইচই কেন…?”-SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, কাঁপছে নবান্ন দফতর

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন (Election in West Bengal) ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জটিলতায় এবার চরম পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে SIR (Special Interactive Revision) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পারস্পরিক ‘বিশ্বাসের অভাব’ (Trust Deficit) নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন প্রধান বিচারপতি। আদালত সাফ জানিয়ে দিল, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবার বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হবে। আর এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনোভাবেই নির্বাচন করানো সম্ভব নয়।
কেন বিচারক নিয়োগের নির্দেশ?
আদালত লক্ষ্য করেছে, রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসংগতি চরমে পৌঁছেছে। এই জট কাটাতে:
-
কারা থাকছেন: প্রতিটি জেলায় অতিরিক্ত জেলা বিচারক পদমর্যাদার বর্তমান অথবা প্রাক্তন আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হবে।
-
কাজ কী: ভোটার তালিকার ওপর জমা পড়া দাবি ও অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি করবেন তাঁরা।
-
সহযোগিতা: মাইক্রো-অবজারভার এবং রাজ্যের গ্রুপ-এ স্তরের আধিকারিকরা তাঁদের লজিস্টিক সহায়তা দেবেন।
নবান্নকে তুলোধনা সুপ্রিম কোর্টের
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রাজ্যের কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করেছিলাম, কিন্তু আমরা হতাশ।” আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO) নিয়োগ নিয়ে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে যে দড়ি টানাটানি চলছে, তার ফলে গোটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অচল হয়ে পড়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: “রাজ্য এবং কমিশনের মধ্যে গুরুতর বিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।”
বিহারের উদাহরণ ও কমিশনের বিস্ফোরক দাবি
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রক্রিয়ায় বারবার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। কমিশনের আইনজীবী বলেন, বিহার বা অন্য কোনো রাজ্যে এই সমস্যা নেই, যা শুধুমাত্র বাংলাতেই দেখা যাচ্ছে। তবে মজার বিষয় হলো, তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ার পর ভোটারের নাম বাদ পড়ার হার মাত্র ৭.৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেখে অবাক প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “এত কম শতাংশের জন্য এত হইচই কেন হচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
ভোট কি তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেল?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এটা স্পষ্ট যে, বিচারবিভাগীয় এই স্ক্রুটিনি শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে ভোটের দামামা বাজবে না। যদিও এতে আদালতের নিয়মিত কাজ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে, তবুও গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্বার্থে একেই ‘একমাত্র পথ’ হিসেবে দেখছে শীর্ষ আদালত।
আপনার কি মনে হয়, বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপে বাংলার ভোটার তালিকা কি কলঙ্কমুক্ত হবে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।