ব্রেকিং: ‘সন্তান হারানোর সমান কষ্ট!’ প্রতীক উরের ইস্তফা গ্রহণ করে বিস্ফোরক সেলিম, তবে কি কোনো গোপন অভিযোগ?

নির্বাচনের আগে বড়সড় ধাক্কা সিপিআইএম শিবিরে। দীর্ঘ টালবাহানা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দলের তরুণ তুর্কি প্রতীক উরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করল আলিমুদ্দিন। শুক্রবার দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে এই বিচ্ছেদ যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তা সেলিমের কথাতেই স্পষ্ট। প্রতীকের দল ছাড়াকে ‘সন্তান হারানোর’ সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।

সেলিমের বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগের ইঙ্গিত: প্রতীক উরের পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, “নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের ওপর দল অনেক বিনিয়োগ করে। এমন একজন কর্মীকে হারানো সন্তানহারা হওয়ার সমান।” তবে এই আবেগের পাশাপাশি সেলিমের গলায় শোনা গিয়েছে শৃঙ্খলার সুরও। তিনি জানান, গত দেড়-দু’মাস ধরে প্রতীকের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার মাঝেই দলীয় সংযোগ বা ‘কন্টাক্ট’ আলগা হতে শুরু করে। এমনকি প্রতীকের অন্য কোথাও ‘কন্টাক্ট’ বাড়ছে কি না, সেই জল্পনাও উসকে দিয়েছেন সেলিম।

নির্বাচনী রণকৌশল ও আসন সমঝোতা: রাজ্য কমিটির বৈঠকের শেষ দিনে আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কথা চলছে বলে জানান সেলিম। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পলিটব্যুরোর বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেলিমের কথায়, “বাংলাকে বাঁচাতে বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। আমাদের লক্ষ্য সিপিআইএম-কে মজবুত করে বামফ্রন্টকে আরও শক্তিশালী করা।”

ধর্মঘট ও আগামী আন্দোলন: দেশজুড়ে চলা শিল্প ধর্মঘটের সাফল্য নিয়েও এদিন মুখ খোলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক। লক্ষ লক্ষ মানুষের এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সিপিআইএম অবিচল। তবে ভোটের ঠিক আগে প্রতীক উরের মতো পরিচিত মুখ দল ছাড়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি বামেদের তরুণ ব্রিগেড ভাঙনের মুখে?