ব্রেকিং: হাইকোর্টে মামলা হতেই ম্যাজিক! বিজেপি শাসিত পঞ্চায়েতে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’!

আইনি লড়াইয়ের মুখে অবশেষে পিছু হঠল প্রশাসন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় দীর্ঘ টালবাহানার পর চালু হলো ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা। বিজেপি শাসিত পঞ্চায়েত হওয়ার কারণেই কি এতদিন মহিলারা বঞ্চিত ছিলেন? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকার স্বীকার করে নিল যে, ওই এলাকার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের বাকচা এবং গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। অভিযোগ ওঠে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে বাকচা পঞ্চায়েতের প্রায় ৭ হাজার মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলাশাসকের দফতরে বারবার আর্জি জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা সুনিতা মণ্ডল সাহু।

হাইকোর্টের কড়া অবস্থান: এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল। রাজ্যের আইনজীবী অমল সেন আদালতে জানান, টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। কিন্তু আদালত এতেই সন্তুষ্ট হয়নি। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন— গত কয়েকমাস কেন এই টাকা বন্ধ রাখা হয়েছিল? কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এলাকার মহিলাদের কি টার্গেট করা হয়েছিল? আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে এর লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বর্ধিত হারে টাকা ও রাজনৈতিক বিতর্ক: উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার চলতি মাস থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা এবং সাধারণ শ্রেণির জন্য ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ময়নার মহিলারা এই বর্ধিত টাকা পেলেও কেন মাসের পর মাস তাঁদের অপেক্ষা করতে হলো, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য। আগামী দিনে এই মামলার শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।