ব্রেকিং: গ্রেফতার হলেন ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু! এপস্টিন যৌন কেলেঙ্কারিতে রাজপরিবারে বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি?

জেফ্রি এপস্টিন এবং যৌন কেলেঙ্কারি—এই দুটি শব্দ যেন ছায়ার মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছিল ব্রিটেনের রাজপরিবারকে। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কলঙ্ক লেপে দিয়ে গ্রেফতার হলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মেজো ছেলে তথা বর্তমান রাজা চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। বৃহস্পতিবার নিজের জন্মদিনের দিনই টমাস ভ্যালি পুলিশের হাতে বন্দি হতে হলো তাঁকে। ১৭ শতকের পর এই প্রথম ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো সদস্যকে গ্রেফতারের স্বাদ চখতে হলো।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও গ্রেফতারি: তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সরকারি পদের অপব্যবহার এবং কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টিনের যৌন অপরাধচক্রে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাহাড়প্রমাণ তথ্যপ্রমাণ রাজপরিবারের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের বাণিজ্য দূত থাকাকালীন অ্যান্ড্রু এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান এবং দেশের গোপন তথ্য পাচার করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভার্জিনিয়া জিউফ্রে মামলা ও বিস্ফোরক তথ্য: অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ এনেছিলেন ভার্জিনিয়া জিউফ্রে। তাঁর অভিযোগ ছিল, মাত্র ১৭ বছর বয়সে এপস্টিনের মাধ্যমে অ্যান্ড্রু তাঁর সঙ্গে তিনবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই মামলা ধামাচাপা দিতে ১৩৫ কোটি টাকা দিয়ে আদালতের বাইরে মীমাংসা করেছিলেন অ্যান্ড্রু। কিন্তু গত বছর ভার্জিনিয়ার আত্মহত্যার পর তাঁর পরিবার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়। সম্প্রতি ‘এপস্টিন ফাইলস’ সামনে আসতেই দেখা যায় অ্যান্ড্রুর বিকৃত লালসার বীভৎস রূপ। অভিযোগ, ৬ থেকে ৮ বছরের এক নাবালিকাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার সময় সাক্ষী ছিলেন অ্যান্ড্রু।

রাজপরিবারের ভবিষ্যৎ ও আইনি পরিণতি: প্রিন্স অ্যান্ড্রুর এই কীর্তিতে ক্ষুব্ধ রাজা চার্লস এবং হবু রাজা প্রিন্স উইলিয়াম। ইতিমধ্যে তাঁর সমস্ত রাজকীয় উপাধি ও সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রাজা চার্লস সাফ জানিয়েছেন, “আইন সবার জন্য সমান।” তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, রাজপরিবারের সম্পত্তি ‘ফ্রগমোর কটেজ’-এও চলত এই ঘৃণ্য কার্যকলাপ। যদি দোষ প্রমাণিত হয়, তবে অ্যান্ড্রুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের গরিমা রক্ষা এখন কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে।