সুপ্রিম কোর্টকেও তোয়াক্কা নেই? ২৫% ডিএ না মেটানোয় রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা!

মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে নবান্ন বনাম রাজ্য সরকারি কর্মীদের লড়াই এক চরম নাটকীয় মোড় নিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে রাজ্যের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’র (Contempt of Court) মামলা নিয়ে ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন সরকারি কর্মীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’।

কেন এই আইনি পদক্ষেপ? সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার। বকেয়ার অন্তত ২৫ শতাংশ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আদালত রায় দিলেও সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো অর্থ বরাদ্দ বা বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। ১৩ ফেব্রুয়ারি আইনি নোটিস পাঠিয়ে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রকে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কনটেম্পট পিটিশন ফাইল করল কর্মীরা।

বিজেপি-র আশ্বাস ও রাজনৈতিক উত্তাপ: এই আইনি লড়াইয়ের মাঝেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “এই রাজ্য সরকার ডিএ দেবে না। কর্মচারীদের লড়াইয়ের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া হবে।” অন্যদিকে, আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি ৬ মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। কিন্তু মে মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা থাকলেও প্রাথমিক ২৫ শতাংশ নিয়ে সরকারের ‘নিশ্চুপ’ ভূমিকা ক্ষোভের বারুদ উসকে দিয়েছে।

আগামী সপ্তাহে শুনানি: আদালত অবমাননার মামলার পথে হাঁটছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটিও কাজ শুরু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই ‘ধীরে চলো’ নীতি আদালতের নির্দেশের লঙ্ঘন কি না, তা নিয়ে আগামী সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩১ মার্চের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তি মেটানোর নির্দেশ থাকলেও প্রথম কিস্তি ঘিরেই এখন তৈরি হয়েছে বড়সড় আইনি জটিলতা।