কলকাতার ‘ব্যারিস্টার বাবু’ আর নেই! ৯২ বছর বয়সে স্তব্ধ ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্টা শংকর

বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, যিনি পাঠকদের কাছে ‘শংকর’ নামেই ছিলেন হৃদয়ের মণিকোঠায়। শুক্রবার বিকেলে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার পাশাপাশি ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে লড়াই করছিলেন এই কালজয়ী লেখক। তাঁর প্রয়াণে বঙ্গ সাহিত্যের একটি সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

হাসপাতাল ও শেষ মুহূর্ত: হাসপাতাল সূত্রে খবর, চলতি মাসের শুরুর দিকেই ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কিছুদিনের জন্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্বিতীয়বার ভর্তির পর ধরা পড়ে যে তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার রয়েছে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার বিকেলের দিকে চিরবিদায় নেন তিনি। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন তাঁর গুণমুগ্ধ এবং সাহিত্য অনুরাগী নাগরিক সমাজ।

জীবন ও সাহিত্যকৃতি: শংকরের কলমেই প্রথম ধরা দিয়েছিল কলকাতার সাহেবি পাড়ার অন্দরমহল আর সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের অদ্ভুত রসায়ন। ‘চৌরঙ্গী’ থেকে ‘কত অজানারে’, ‘জনঅরণ্য’ থেকে ‘সীমাবদ্ধ’—প্রতিটি সৃষ্টিই পাঠক মহলে এক ইতিহাস তৈরি করেছে। ২০২১ সালে তিনি ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি’ পুরস্কারে সম্মানিত হন। শুধু পাঠক নয়, তাঁর লেখনী মুগ্ধ করেছিল বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়কেও। যার ফলস্বরূপ সেলুলয়েডে অমর হয়ে রয়েছে ‘সীমাবদ্ধ’ এবং ‘জনঅরণ্য’-র মতো সিনেমা।

সাহিত্যিকদের শোকবার্তা: শংকরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন লেখিকা তিলোত্তমা মজুমদার। তিনি বলেন, “একটা যুগের অবসান হল। উনি নগরজীবনকে যে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে দেখতেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত রসিক এবং নিরহঙ্কারী।” তাঁর প্রয়াণে বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের যে ক্ষতি হল, তা অপূরণীয়। আজ সন্ধ্যায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। শোকস্তব্ধ অগণিত ভক্ত আজ স্মৃতির পাতায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁদের প্রিয় ‘শংকর’কে।