উত্তরপ্রদেশে শিউরে ওঠা ঘটনা! একাকী অন্তঃসত্ত্বার রক্তারক্তি কাণ্ড, বাড়িতেই অস্ত্রোপচারের চেষ্টা?

উত্তরপ্রদেশের নান্দওয়াল গ্রামে ঘটে গেল এক পৈশাচিক অথচ করুণ ঘটনা। প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নিজের পেটে নিজেই ছুরি চালালেন ৩৫ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। নানকাই নামের ওই মহিলার এই হাড়হিম করা কাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিউরে উঠছে গোটা দেশ। বর্তমানে লখনউয়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

কী ঘটেছিল সেই দুপুরে? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নানকাইয়ের স্বামী প্রায় ছয় মাস আগে মারা গিয়েছেন। বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর তীব্র প্রসব বেদনা শুরু হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেতে হাতের কাছে থাকা সবজি কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে নিজের পেট চিরে ফেলেন তিনি। প্রতিবেশীরা তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন নানকাই, তাঁর পেটের অন্ত্র পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে এসেছে।

অলৌকিক জন্ম: তড়িঘড়ি তাঁকে ফাখারপুর কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তৎপরতায় তিনি একটি সুস্থ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু নানকাইয়ের নিজের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। জেলা হাসপাতালের প্রধান মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট জানান, “যখন তাঁকে আনা হয়, প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং পেটে গভীর ক্ষত ছিল। আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লখনউ রেফার করা হয়েছে।”

ভাইরাল ভিডিও ও একাকীত্ব: সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে স্ট্রেচারে শোয়া অবস্থায় ওই মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে, যন্ত্রণার তীব্রতা সইতে না পেরেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। অভাবের সংসার আর একাকীত্বের জেরে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরেই কি এই ভয়াবহ ঘটনা? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সুস্থ থাকলেও সদ্যোজাত শিশুটি এখন মাতৃদুগ্ধ ও মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে হাসপাতালের নার্সদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।