কলকাতার শেষ ‘ব্যারিস্টার বাবু’ও বিদায় নিলেন! ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্টা শংকরের জীবনাবসান, স্তব্ধ সাহিত্য জগত

বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রয়াত হলেন কালজয়ী সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, পাঠকদের প্রিয় ‘শংকর’। শুক্রবার দুপুরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে গত ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই বাংলায়।

উইল করে গেছেন শংকর: শংকরের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তিনি একটি বিশেষ উইল করে গেছেন। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী, সাধারণের শেষশ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য তাঁর দেহ কোথাও শায়িত রাখা হবে না। আজই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রচারবিমুখ এই নিভৃতচারী সাহিত্যিক শেষ যাত্রাতেও কোনো আড়ম্বর চাননি।

কেরানি থেকে ‘সাহিত্য আকাদেমি’: ১৯৩৩ সালে বনগাঁয় জন্ম। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়ে জীবনসংগ্রাম শুরু করেছিলেন। কখনো ফেরিওয়ালা, কখনো টাইপিস্ট, আবার কখনো কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টারের ক্লার্ক হিসেবে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই ফুটে উঠেছিল তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘কত অজানারে’-তে। এরপর ‘চৌরঙ্গী’, ‘জন অরণ্য’, ‘সীমাবদ্ধ’— একের পর এক সৃষ্টি বাঙালির মন জয় করে নিয়েছে। ২০২১ সালে ‘একা একা একাশি’ বইটির জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী: শংকরের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা আমাদের অমূল্য সম্পদ।” কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও তাঁর প্রয়াণে শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। শংকরের প্রয়াণে বাংলা সাহিত্যের একটি দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হলো।